ভারত থেকে দেশে চাল আমদানিতে আরোপিত শুল্কহার ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সরকার। আর সেই আদেশের কপি দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর কাস্টমসে আসায় গত ৮/১০ দিন ধরে আটকে থাকা চালবাহী ট্রাকগুলো থেকে চাল খালাস শুরু হয়েছে। এতে করে ঈদের আগে দেশের বাজারে চালের সরবরাহ যেমন বাড়বে তেমিন চালের দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ৬টাকা হারে কমবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। বন্দর থেকে চাল খালাস শুরু হওয়ায় কমতে শুরু করেছে বন্দরের ভেতরে সৃষ্ট পণ্যজটও।
বুধবার সন্ধ্যায় চাল আমদানিতে শুল্কহার কমানোর আদেশ হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর সার্ভারে বৃহস্পতিবার তা যোগ করা হয়। শুক্রবার থেকে বন্দর থেকে সরকার ঘোষণাকৃত নতুন শুল্কহার ১০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে চাল খালাস শুরু হয়েছে। এদিকে শূল্কহার কমানোর ফলে বন্দর দিয়ে চালের আমদানি আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। ঈদের পরে এর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানান বন্দরের ব্যবসায়ীরা।
হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেটে ভারতীয় সিএন্ডএফ এজেন্ট রাজিব কুমার জানান, ভারত থেকে বাংলাদেশে চালের আমদানি শূল্ক বেশি থাকার কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চালের রফতানির পরিমাণ কমে গিয়েছিল। এছাড়াও সম্প্রতি চালের শুল্ক প্রত্যাহার হবে এমন আশায় ভারত অভ্যন্তরে প্রধান সড়কের পাশে বেশ অনেকগুলো চালবাহী ট্রাক দাড় করিয়ে রেখেছিল আমদানিকারকরা। এছাড়াও অনেকে স্থানীয় গুদামে চাল মজুদ করেছিল। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ সরকার চালের আমদানি শুল্ক কমানোর ফলে ওই দিন থেকেই হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে আটকে থাকা সকল চালবাহী ট্রাকগুলোর রফতানি শুরু হয়েছে। যার ফলে বন্দর দিয়ে চাল রফতানির পরিমান বেড়ে গেছে। হিলি স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম ও রাজু আহম্মেদ জানান, ‘চাল আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের আদেশের কপি হিলি কাস্টমসে আসায় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর সার্ভারে তা এন্ট্রি করায় হিলি কাস্টমসে চাল আমদানিতে নতুন শুল্কহারে আমদানিকৃত চালের পরিক্ষণ ও শুল্কায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমরা আমাদের আমদানিকারকদের আমদানিকৃত চালগুলো বন্দর থেকে খালাস করার জন্য হিলি কাস্টমসে আমদানিকৃত পণ্যের বিল অব এন্ট্রি সাবমিট করেছি। শুল্ক পরিশোধ করে বন্দর থেকে চাল খালাস করে আমদানিকারকদের নিজস্ব গুদামে নেওয়া হচ্ছে।’
হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক রাজিব দত্ত ও মামুনুর রশিদ জানান, শুল্ক প্রত্যাহারের আশায় বন্দরের অভ্যন্তরে ৮/১০ দিন ধরে আটকে থাকা আমদানিকৃত চাল নিয়ে জটিলতার অবসান হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্দর থেকে এসব চাল খালাস হওয়ার কারণে দেশের বাজারে চালের সরবরাহ খানিকটা বাড়বে। এর ফলে ঈদের আগেই দেশের বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম ৫ থেকে ৬টাকা করে কমবে। দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ে যে অস্থিরতা বিরাজ করছিল তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
তারা আরও জানান, চাল আমদানিতে যে পরিমাণ শুল্ক আরোপিত ছিল তাতে করে শুল্ক পরিশোধসহ সব ধরনের খরচ দিয়ে এক কেজি চাল আমদানিতে ৪২ টাকার মতো পড়তো। আর এক কেজি চাল আমদানি করতে শুল্ক পরিশোধ করতে হতো ৯ টাকা থেকে ১০ টাকার মতো। বর্তমানে ভারত থেকে দেশে চাল আমদানিতে শুল্কহার কমানোর ফলে চাল আমদানিতে শুল্ক যেমন কমবে তেমনি প্রতি কেজি চালের দাম ৫ থেকে ৬টাকা করে কমবে বলেও তারা জানান। যে চাল সাধারন গ্রাহক পর্যায়ে ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা কেজি কিনে খেতো সেই চাল ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় নেমে আসবে বলে তারা জানিয়েছেন।
হিলি স্থলবন্দর শুল্কষ্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মো.মাকসুদুর রহমান জানান, ‘হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে শুল্ক কমা বাড়া নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে চাল আমদানি হলেও সেগুলো শুল্কায়ন বা খালাস করা হয়নি। আমরা ২৮ শতাংশ শুল্ক থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রজ্ঞাপন পেয়েছি ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর সার্ভারে সেটি এন্ট্রি হয়েছে। সেই অনুসারে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিকৃত চালগুলো নতুন রেট ১০ শতাংশ শুল্কে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হচ্ছে এবং বন্দর থেকে চালগুলো ছাড় দেওয়া হচ্ছে।’
হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ বিষয়ক কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, ‘বন্দরের ভেতর গত কয়েকদিন ধরে শুল্ক প্রত্যাহারের আশায় ৬/৭ হাজার টন চাল আটকা ছিল। শুল্ক কমানোর নতুন আদেশের কপি বন্দরে আসায় পানামা পোর্ট থেকে আটকে পড়া চালগুলো খালাস শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্দরের অভ্যন্তরে চালবাহী ট্রাক আটকে যে পণ্যজটের সৃষ্টি হয়েছিল সেটিও নিরসণ হচ্ছে। আমরা আশা করছি ঈদের আগেই বন্দরের ভেতরের যানজট সম্পূর্ণ নিরসন হবে।’
/এফএস/
আরও পড়ুন- ত্রাণ নিয়ে যত অভিযোগ লংগদুর দুর্গতদের








