নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গাইবান্ধার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ৩৮ সে.মি. ও ঘাঘট নদীর শহরের ব্রিজ এলাকার পানি বিপদসীমার ২৪ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জসহ ৪ উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে করে ৪ উপজেলার ৬০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এসব এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গবাদি পশুর গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
তাছাড়া কাঁচা রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা ও বাঁশের সাঁকোই এখন বন্যাদুর্গতদের প্রধান ভরসা। তলিয়ে গেছে শতশত বিঘার পাটের জমি ও আমন বীজতলা। বাধ্য হয়ে অনেকে পরিবার নিয়ে বালাসী ঘাটের রেলের জায়গা, উঁচু বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। পানির প্রবল চাপে সিংড়া-রতনপুরসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।
এদিকে, গত ৫ দিন ধরে বন্যাদুর্গতদের হাতে কোনও কাজ নেই। ঘরে শুকনো খাবার যা ছিলো তাও শেষ হয়েছে। বর্তমানে তারা খাদ্য সংকটে পড়েছেন। কিন্তু কপালে জোটেনি ত্রাণ সহায়তা। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কোনও ত্রাণ তৎপরতা দেখা যায়নি।
কাইয়ারহাট স্কুলের সামনে আশ্রয় নেওয়া রহিমা বেগম জানান, পানির কারণে চর থেকে তিনি এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘরে খাবার নেই, নেই গরুর খাবার; এ কারণে তিনি আরও বিপাকে পড়েছেন। ৫ দিন ধরে গরুর খাবার নিয়েও বিপাকে পড়েছেন তিনি।
বালাসী ঘাটের রেলের জায়গায় আশ্রয় নেওয়া হয়রত আলী নামে অপর একজন জানান,পানি বৃদ্ধির কারণে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রেলের জায়গায় ছাউনি তুলেছেন। হাতে কাজ না থাকায় পড়েছেন অর্থ সংকটে। ঘরে খাবার না থাকায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তার।
উড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মহাতাব উদ্দিন বলেন, ‘পানিবন্দি অবস্থার কারণে আমার ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় অবস্থান নিয়েছে। এসব মানুষের মধ্যে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।’
উদাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বন্যার কারণে অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া নদী ভাঙনসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কয়েক পয়েন্টে ঝুঁকি বেড়েছে। বন্যাদুর্গতরা ৫ দিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও কোনও ত্রাণ পৌঁছায়নি এখনও।’
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, ‘চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে বন্যা মোকাবেলায় প্রশাসনের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যাদুর্গতদের মধ্যে দ্রুত ত্রাণ তৎপরতা শুরু করা হবে। এছাড়া বন্যাদুর্গতদের আশ্রয়ণ প্রকল্পে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, এক দিনের ব্যবধানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে উঠে গেছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে জেলার সব নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করবে। ফলে জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটবে। সেই সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
/এএইচ/এআর/








