বন্যায় কুড়িগ্রামের কাঁচা সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় দুর্ভোগ বেড়েছে দুর্গত এলাকার মানুষের। বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে যাওয়া কাঁচা সড়ক ও ব্রিজ, কালভার্টের সংস্কারে এখনও কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট মেরামত ও ব্রিজ-কালভার্ট সংস্কার করে দুর্ভোগ কমানোর দাবি জানিয়েছেন বন্যা দুর্গতরা।
সম্প্রতি টানা দুই সপ্তাহের বন্যায় কুড়িগ্রাম জেলার ৭ উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তাসহ নদ-নদীর অববাহিকার প্রায় দুই লাখ মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকে গ্রামীণ জনপদের রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট। উজান থেকে নেমে আসা পানির তীব্র স্রোতে এসব এলাকার কাঁচা সড়ক, ব্রিজ-কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। সরকারি হিসাব মতেই জেলায় ১৪.৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ও ১.৫ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি হিসেবে বন্যা কবলিত এলাকায় ১৭টি ব্রিজ, কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় তিনটি এবং চিলমারী উপজেলায় ১৪ টি ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা সূত্রে জানা গেছে।
বন্যার পানির ধকল কাটিয়ে উঠলেও বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ভাঙা ব্রিজ-কালভার্টে যাতায়াতের ঝুঁকি কমছে না বন্যা দুর্গতদের। যানবাহনে চলাচল করতে না পারায় পায়ে হেঁটে কোনও রকম হাট-বাজারসহ প্রয়োজনীয় কাজ সারছে এলাকাবাসী।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের জামান উদ্দিন (৬০) জানান, ভাঙা সড়কে কোনও রকমে পায়ে হেঁটে চলাফেরা করলেও যানবাহন নিয়ে চলাফেরা করতে পারছেন না মানুষজন। অথচ এসব ভাঙাচুরা রাস্তা ও ব্রিজ মেরামতে মেম্বার চেয়ারম্যানসহ সরকারি কোনও উদ্যোগ না থাকায় ভাঙা ব্রিজের ওপর নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বন্যা কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্টে বিপাকে পড়েছেন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।
একই এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী জেসমিন বেগম বলেন, ‘আমাদের এ এলাকাটি বন্যা প্রবণ। অথচ যাতায়াতের ব্যবস্থা অবহেলিত। বন্যায় রাস্তা ও ব্রিজ ভেঙে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে আমাদের কষ্ট করেই যাতায়াত করতে হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে উলিপুরের হাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিএম আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে তিনটি ব্রিজ, তিনটি কালভার্ট বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে গেছে। এছাড়া অনেক কাঁচা সড়কের মাটি পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি যাতে করে অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্ট মেরামত করে জনগণের যাতায়াতের সমস্যা দূর করা যায়।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন জানান, বন্যায় যেসব উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের কাঁচা সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে সবের তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ-কালভার্ট ও সড়ক মেরামতের কাজ করা হবে।
/বিএল/








