বিগত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ঠাকুরগাঁও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (এলজিইডি) বিভাগ প্রায় ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করে বদলে দিয়েছে জেলার খোলনলচে। এই উন্নয়নের মাধ্যমে স্বপ্নের মতো পাল্টে গেছে গ্রামগুলি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, পাকা রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্ট, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছে।ফলে গ্রামের সঙ্গে শহরের দূরত্ব কমে গেছে। অব্যাহত এই উন্নয়ন করতে ঠাকুরগাঁও জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়সহ পাঁচ উপজেলায় ৫টি উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের অধীনে ১১৩ জনের একটি দক্ষ জনশক্তি সম্পন্ন টিম কাজ করছে। তবে খালি আছে এখনও ৩৫টি পদ, যা পূরণ হলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ঠাকুরগাঁওবাসী।
জেলায় ১২০ কি.মি. পাকা রাস্তাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সদর উপজেলার শিবগঞ্জ ভাউলারহাট রাস্তা, ব্রিজ কালভার্টসহ ৩.৭০০ কি.মি. রাস্তা নির্মাণ, ৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাণীশংকৈলের বলিদ্বারা আরএইচভি ৯ কি.মি. রাস্তা ব্রিজ কালভার্ট, ৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বালিয়াডাঙ্গীর লাহিড়ী রামনাথ জিসি ৭.৩৪৩ কি.মি. রাস্তা ব্রিজ কালভার্ট, ৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সদরের পারপুগী থেকে নেকমরদ ৪.২১০ কি.মি. রাস্তা ব্রিজ কালভার্ট।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলের নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান সরকারের দিক নির্দেশনায় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার পরিজনদের জন্য উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (এলজিইডি) বিভাগ। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭টি প্যাকেজে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ১৯টি বাড়ি নির্মাণ আর ৪ উপজেলায় চারটি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ যার ব্যয় প্রায় ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
অন্যদিকে ২২০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বালিয়াডাঙ্গীর নহনা নদীর ওপর ৩৪ মিটার, একই উপজেলার বড় পলাশবাড়ি-লাকশামপাড়া তীরনই নদীর ওপর ৯০ মিটার ও লাহিড়ী জিসি কালমেঘ জিসি ভায়া দোগাছি হাট তীরনই নদীর ওপর দিয়ে ৬৩ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ উল্লেখযোগ্য।
এলজিইডি ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কাণ্ডেশ্বর বর্ম্মণ জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিশেষ করে দেশের অর্ধেক অবহেলিত জনশক্তি নারীদের কর্মসংস্থানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে এই উন্নয়নের রথ। তার দেওয়া তথ্য মতে, প্রায় ১১০০ নারী এই সড়ক ব্রিজ ভবন নির্মাণে নিয়োজিত ছিলেন। গহন গ্রামে মানুষের জীবনযাপন, উৎপাদন, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়নসহ সমস্ত অগ্রগতিতে এ উন্নয়ন বিশেষ ভূমিকা পালন করছে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন।
/বিএল/








