‘বাড়িওয়ালা কয় মাস থাকি কোনও বিল (বেতন) দেয় না। শুক্রবার বেতন নিয়া বাড়ি আইসপ্যার চাইছিল। এবার বাড়ি আসি হামার সঙ্গে কুরবানি ঈদ করবার চাইছিল।'মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে এভাবেই বিলাপ করছিলেন লাইলীর মা আলেয়া বেগম।
রাজধানীর বনশ্রীর জি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন লাইলী। শুক্রবার (৪ আগস্ট)ওই বাড়ির নিচতলার এটি কক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
লাইলীর গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়ার কালিরহাট বাজার সংলগ্ন সমন্বয় পাড়ায়। মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে শুক্রবার বিকালেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তার বাবা নজরুল ইসলাম। মেয়ের মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা আলেয়া।
কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,‘মনে ডাকছে,ওই বাড়িওয়ালা আমার মেয়েরে মারছে। এখন ওর বাচ্চাগুলার কী হইবে'
তিনি আরও বলেন,বৃহস্পতিবার রাতে লাইলী তার বড় বোন লাভলিকে ফোনে বলছে যে সে (লাইলী) কয়েক মাসের বকেয়া বেতন নিয়ে বাড়ি ফিরে আসবে। গত কয়েক মাস থেকে বাড়িওয়ালা তাকে কয়েক মাসের বেতন দিচ্ছেন না। এজন্য তার নিজের বাসা ভাড়া বাকি পড়ে গেছে। ধার-দেনা করে তাকে চলতে হচ্ছিল। শুক্রবার লাইলী বকেয়া বেতন নেওয়ার জন্য ওই বাড়িতে গিয়েছিল বলে দাবি করেন তার মা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১০-১২ বছর আগে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মধ্যকাশিপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় লাইলীর। তাদের এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। কয়েক বছর আগে নজরুল কাজের জন্য ভারতে চলে যান। গত প্রায় দেড় বছর ধরে ভারতের কুচবিহার জেলার কারাগারে বন্দি রয়েছেন তিনি। অভাবের তাড়নায় গত বছর লাইলী তার ননদের সঙ্গে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় কাজ করতে চলে আসেন। সাত মাস আগে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। এবার কোরবানি ঈদে তার আবার বাড়িতে আসার কথা ছিল।
/এসটি/
আরও পড়নু:
বনশ্রীতে গৃহকর্মী নিহতের ঘটনায় মামলা








