বর্ষণ আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি আবার বেড়েছে। বুধবার (৯ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। যদিও বিকাল ৩টায় তা কমে ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি প্রবাহ এভাবে কমা-বাড়ায় তিস্তার উজানে ভাঙন তীব্র হচ্ছে। টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামের মাটির বাঁধটি বিলিন হওয়ার ফলে ৩০ বিঘা জমির ফসল ও সাতটি পরিবারের বসতভিটা বিলিন হয়েছে।
বুধবার (৯ আগষ্ট) বিকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের নিয়ে বাঁধে জরুরি সভা করেছে টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন। এলাকাবাসীকে পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামটি রক্ষায় সবার সহযোগিতা চেয়ে বাঁশ ও বালুর বস্তা দিয়ে ব্যবস্থা নিতে সেচ্ছাশ্রমের আহ্বান জানান।
দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব খড়িবাড়ীতে তিস্তা নদীর ডানতীর তৈরি করা দুই কিলোমিটার মাটির বাঁধটি ইতোমধ্যে ৪শ মিটার নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গ্রামের ভেতরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ইউএনডিপির অর্থায়নে, সিডিএমপি বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদ বাঁধ কাম এক হাজার ৯৮২ মিটার দীর্ঘ রাস্তা মেরামত করা হয়। বাঁধটি নির্মাণের ফলে পূর্ব খড়িবাড়ী, দক্ষিণ খড়িবাড়ী, ছোটখাতা গ্রামের হাজারো পরিবারের বসতভিটায় বন্যার পানি প্রবেশ করতে পারেনি। কিন্তু বাঁধটি গত শুক্রবার (৪ আগষ্ট) ভেঙে পড়ায় এসব পরিবার চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সকালে সাতটি পরিবারের বসতভিটা অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটিতে সিসি ব্লক দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী করতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।
পূর্ব খড়িবাড়ী গ্রামের জিয়াউর রহমান (৪৫) জানান, মাটির বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার ফলে তিনটি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ দীর্ঘস্থায়ী না করলে হাজার হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হবে।
টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন জানাবলেন, ‘বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধটি রক্ষা করতে না পারলে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলে ৩টি গ্রামের হাজারো পরিবার বন্যা কবলিত হবে। বাঁধের ভেতরে কয়েকশ একর জমির ফসল বন্যার পানিতে নষ্ট হবে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বুধবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ও বিকাল ৩টা তা আরও ১৫ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
/এসএমএ/








