টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রংপুরে তিস্তা-ঘাগটসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে জেলার ৪টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে গঙ্গাচড়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ৩৫ হাজার মানুষ। এদিকে তিস্তার ডান তীরে বাঁধের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। প্রবল স্রোতে মুটুকপুর আর চল্লিশের চরের ২০টি বাড়ি ভেসে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব জানান, গঙ্গাচড়ার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তিস্তা নদীর পানি গঙ্গাচড়া আর কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অবিরাম বর্ষণের কারণে পীরগাছা,কাউনিয়া,পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলার ৩৫টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। শত শত হেক্টর জমির আমন ধান তলিয়ে গেছে।
রংপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক স ম আশরাফ আলী বলেছেন, গত ৩ দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে রংপুর সদর,মিঠাপুকুর,গঙ্গাচড়া,পীরগঞ্জ, কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া উপজেলার কয়েক হাজার হেক্টর ধান ক্ষেত তলিয়ে গেছে। তবে এতে তেমন ক্ষতি হবে না। বৃষ্টি কমলে ধান ক্ষেত সজীব হয়ে উঠবে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আলী জানান, গত ১২ ঘণ্টায় রংপুরে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ নিয়ে ৩ দিনে বৃষ্টি হয়েছে ৩৪০ মিলিমিটার।
অবিরাম বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর নিম্নাঞ্চলের ১০ মহল্লায় হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
/এসটি/








