সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ও প্রধান সড়কের ওপর বানভাসিরা আশ্রয় নেওয়ার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি রফতানি আগের তুলনায় অনেকটা কমে গেছে। এর ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি বন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণের পরিমাণও কমেছে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ বিষয়ক কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আগে বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১৮০ থেকে ২২০ ট্রাক পণ্য আমদানি রফতানি হতো। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০ ট্রাক পণ্য আমদানি রফতানি হচ্ছে। এতে বন্দর কতৃপক্ষ যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি বন্দর থেকে সরকারের যে রাজস্ব আদায় হতো সেই লক্ষ্যমাত্রাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন,‘১ আগস্ট থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত ২০ দিনে ভারত থেকে ২ হাজার ৮৩৩ ট্রাকপণ্য আমদানি হয়েছে। অন্যদিকে গত জুলাই মাসে ২৬ দিনে এ বন্দর দিয়েই ৪ হাজার ৩৯২ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি ও এফবিসিসিআই ঢাকার সদস্য মো. হারুন উর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাটের গঙ্গারামপুরে একটি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই ব্রিজ দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করতে পারছে না। যে কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে ১৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) থেকে ১৯ আগস্ট (শনিবার) পর্যন্ত তিন দিন পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ আমদানি বন্ধ ছিল। তবে ওই সময় ভারতের হিলিতে পার্কিংয়ে থাকা চালসহ অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাক বন্দর দিয়ে ঢুকেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটি সংস্কার শেষে গত ২০ আগস্ট (রবিবার)খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল শুরু হয়েছে। তবে পণ্য আমদানি রফতানি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আমাদের জানিয়েছেন, বন্যার কারণে বেশ কিছু ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ও বানভাসীরা রাস্তায় আশ্রয় নেওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। তবে পুলিশি প্রহারায় চাল, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচসহ জরুরি পণ্যবাহী কিছু ট্রাক চলাচল করছে। পানি কমে যাওয়ার পর সড়ক থেকে বন্যার্তরা সড়ে গেলে আমদানি রফতানি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
আরও পড়তে পারেন: রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের মতবিনিয়ম সভা








