১৭ দিন বন্ধের পর মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে বুড়িমারী-লালমনিরহাট-কাউনিয়া-সান্তাহার ও বুড়িমারী-লালমনিরহাট-রংপুর-পার্বতীপুর রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়িমারী-লালমনিরহাট-কাউনিয়া-সান্তাহার ও বুড়িমারী-লালমনিরহাট-রংপুর-পার্বতীপুরগামীসহ মোট চার জোড়া ট্রেন এই রুটে প্রতিদিন চলাচল করতো। বন্যায় ১২ আগস্ট ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে দফতর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন রেললাইন মেরামত করে দুদিন পর লালমনিরহাট- ভোটমারী পর্যন্ত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করতে পারলেও হাতীবান্ধা রেলওয়ে স্টেশনের সামনে ১১০ ফুট লম্বা ও ২৩-১৫ ফুট গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় বুড়িমারী স্থলবন্দর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চালানো সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত অস্থায়ী ভিত্তিতে মেরামত করে মঙ্গলবার বুড়িমারী রেলওয়ে স্টেশনের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। এতে ঈদ যাত্রায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গমনকারী যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাতীবান্ধা রেওয়ে স্টেশন মাষ্টার নুরন্নবী বলেন, ‘বন্যায় গত ১২ আগস্ট বুড়িমারী স্থলবন্দর-লালমনিরহাট রেলওয়ে রুটের হাতীবান্ধা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে রেলওয়ে লাইনের নিচ থেকে মাটি ও পাথর পানির তোড়ে ভেঙে ১১০ ফটু লম্বা এবং ২৩-১৫ ফুট গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর আপাতত ওই ভাঙা স্থানে একটি অস্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ১২ আগস্ট থেকে বুড়িমারী স্থলবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে আটক থাকা ৪৫৫ নম্বর যাত্রীবাহী লোকাল ট্রেনটি মঙ্গলবার মেরামত করা ওই রেলওয়ে লাইনের ওপর দিয়ে চালানো হয়। এরপরও আরও একটি যাত্রীবাহী ট্রেন বুড়িমারী স্থলবন্দর রেলওয়ে স্টেশন পৌঁছে আবার লালমনিরহাটের উদ্দেশে ফেরত চলে গেছে। এখন আপাতত কোনও সমস্যা নেই।’
বুড়িমারী স্থলবন্দর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। এখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় স্থানীয় লোকজন খুশি।’
পাটগ্রাম উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘লালমনিরহাট-বুড়িমারী রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছিল। মঙ্গলবার লালমনিরহাট-বুড়িমারী রুটে ট্রেন চলাচল আবারও শুরু হওয়ায় এই অঞ্চলের সাধারন মানুষের মাঝে আনন্দ দেখা দিয়েছে। মানুষ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।’ একই কথা বলেন, লালমনিরহাট-সান্তাহারগামী ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক ও সফিকুল ইসলাম।
লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে হাতীবান্ধা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে বন্যায় ভেঙে যাওয়া স্থানে দ্রুত পাইলিং করে অস্থায়ী ভিত্তিতে একটি ব্রিজ স্থাপনের মাধ্যমে লালমনিরহাট-বুড়িমারী রেলওয়ে সেকশনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। এই রুটে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে থাকে। মঙ্গলবার থেকে এসব ট্রেন ওই রুটে চলাচল করা শুরু করেছে। ফলে কোনও যাত্রী ঈদে বাড়ি ফেরার ভোগান্তিতে পড়বে না।’








