দুর্গা পূজা আসলেই শোলার ফুল তৈরি করেন কুড়িগ্রামের হরগোবিন্দ

আরিফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৪:১২আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৪:১২

রং তুলি দিয়ে শোলার ফুল ও শোলার ঠাকুর তৈরি করছেন হরগোবিন্দ ও তার স্ত্রী শুরু হতে যাচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। পূজার শেষদিন অর্থাৎ দশমীর দিন হবে দুর্গার বিসর্জন। বিসর্জনের দিন সকাল থেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিটি পরিবারে অমঙ্গল দূর করার প্রত্যাশায় লাগানো হবে শোলার তৈরি ফুল। হিন্দু সম্প্রদায়ের মতে, অমঙ্গল দূর করে মঙ্গল ধরে রাখতে আর শনির দৃষ্টি থেকে বাঁচতেই এই শোলার তৈরি ফুল ও শোলার তৈরি ঠাকুর দেবতা ব্যবহার করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে দুর্গা পূজা আসলেই শোলার ফুল তৈরি করেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিষামত শিমুলবাড়ী গ্রামের হরগোবিন্দ বর্মন (৬৫)।

পেশায় বাঁশের ডালি-কুলার কারিগর হরগোবিন্দ এই উৎসবের সময় তার নিয়মিত পেশায় বিরতি দিয়ে শুরু করেন শোলার ফুল বানানোর কাজ। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নিজ বাড়িতে বসে স্ত্রী স্বরসতী রানীকে (৫০) নিয়ে শোলা দিয়ে তৈরি করছেন হাজারো ফুল আর ঠাকুর দেবতার প্রতিকৃতি।

হরগোবিন্দ জানান, কিশোর বয়স থেকেই পূজো এলেই তিনি শোলার ফুল তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতেন। অনেকে তার বাড়িতে এসেও কিনে নিয়ে যেতেন। ধীরে ধীরে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ও হিন্দু পাড়া থেকে শত শত ফুলের অর্ডার পাওয়া শুরু করেন হরগোবিন্দ। এভাবেই প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি এই ফুল তৈরি করে আসছেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে ফুল তৈরি করা শেখান।

হরগোবিন্দ আরও জানান, প্রতি বছর দুর্গা উৎসবে শোলার ফুল বিক্রি করে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা আয় করেন তিনি। এই টাকা দিয়ে কোনও রকমে পরিবারের সদস্যদের  নতুন জামা-কাপড় কেনাসহ আত্মীয় স্বজনদের আপ্যায়ন করেন।

হরগোবিন্দ বলেন, দুর্গা পূজার শেষে তিনি আবারও তার মূল পেশা বাঁশ দিয়ে ডালি-কুলা তৈরির কাজে ফিরে যাবেন। বাঁশের তৈরি ডালি কুলা বাজারে ও পাড়ায় পাড়ায় বিক্রি করেই সারাবছর কোনও রকমে সংসার চলে তার।

হরগোবিন্দর স্ত্রী স্বরসতী রানী জানান, শারদীয় উৎসবের শেষ দিনে এই শোলার ফুল প্রতিটি মন্দিরে, দেবীর সিংহাসনের সামনে, মন্দিরের দরজায়, বাড়ির প্রবেশদ্বার, থাকার ঘর, বিভিন্ন যানবাহনসহ পুকুর ঘাট, এমনকি ক্ষেত খামারেও সারিবদ্ধভাবে টাঙানো হয়। এছাড়াও তারা শোলা দিয়ে মনষা বিষোহরি ঠাকুর, শাইটোর ও ঘারঘুরি ছোট ফুল, একডালি ফুল, দোডালি ফুল, চারডালি ফুল তৈরি করে বিক্রি করেন।

আরও পড়ুন:
পূজার আনন্দ আমার পরিবারে নাই: রসরাজ দাস

/বিএল/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
একদিনে হামে আর ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আর ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী