গ্রামীণ ব্যাংকের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীকরনসহ কর্ম ঘণ্টা নির্দিষ্ট করার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। রবিবার দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশে গ্রামীণ ব্যাংক রংপুর জোনের অধীন রংপুর , গাইবান্ধা , কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার কয়েকশ’ কর্মচারী অংশ নেয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উত্তরাঞ্চল ‘গ্রামীণ ব্যাংক কাজের লোক ঐক্য পরিষদে’র সভাপতি মো. রায়হান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোমেনসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার কর্মচারী চরম বৈষম্যের শিকার। আমাদের ঈদ, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, মহান ভাষা দিবসসহ কোনও সরকারি ছুটি দেওয়া হয় না। আমাদের দিয়ে ২৪ ঘণ্টাই কাজ করানো হয়। বিনিময়ে মজুরি দেওয়া হয় দৈনিক মাত্র চারশ’ টাকা। এক দিন কাজ না করলে সেই দিনের মজুরি কেটে রাখা হয়। আমাদের পিয়ন কাম নাইট গার্ডসহ সব কাজই করতে হচ্ছে। তারপরও আমাদের চাকরি স্থায়ী করা হচ্ছে না।’
তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘ঈদের দিনও আমাদের অফিসে থাকতে হয়। অফিসের কাজ ছাড়াও আমাদের দিয়ে জোর করে কর্মকর্তাদের বাসা-বাড়ির বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেওয়া হয়। প্রতিবাদ করলে চাকরি থেকে ছাটাই করে দেওয়া হয়। পৃথিবীর কোনও দেশ নেই, যেখানে ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের মানুষ মনে করে না। শুধু মাত্র বেঁচে থাকার তাগিদে এই অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করে আমারা চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছি।’
তারা বলেন, ‘অনেক কর্মচারী ১০ থেকে ১৮ বছর ধরে কাজ করছেন অথচ তাদের চাকরি এখনো স্থায়ী হয়নি। গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অনেকবার আমাদের চাকরি স্থায়ী করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা করেননি।’ সমাবেশ থেকে অবিলম্বে চাকরি স্থায়ীকরনসহ ২৪ ঘণ্টা কাজ করা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে।
রংপুর গ্রামীণ ব্যাংক জোনাল ম্যানেজার শাহ মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘মানববন্ধন কথা আমি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে আমার কিছুই করনীয় নেই। এ ব্যাপারে যে কোনও ধরনের ব্যবস্থা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া অধিকার একমাত্র গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষে।








