চার দিন অচলাবস্থার পর অবশেষে দিনাজপুরে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার পর জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন দিনাজপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ। দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমের উদ্যোগে তৃতীয় দফার সমঝোতা বৈঠক শেষে আজ রবিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর ১টায় পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণ দেন তারা।
জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমের সভাপতিত্বে তার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে হাবিপ্রবি’র পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম এবং পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. রফিক, সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী, দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সেলু। বৈঠকে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।
বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনায় হয়। সমঝোতা হওয়ার পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। বৈঠকে দুই পক্ষের দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তিসহ দুটি বাসের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একইসঙ্গে এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব যাতে আর না হয় সেজন্য উভয় পক্ষের আট সদস্যের একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণার পর দিনাজপুরে দূরপাল্লাসহ সব রুটে আবার যান চলাচল শুরু হয়। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বহন করা একটি বাসের সঙ্গে তৃপ্তি পরিবহন নামে একটি বাসের সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুই ছাত্র ও তিন শ্রমিক আহত হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর ও দুটি বাসে অগ্নিসংযোগ করেন। এর প্রতিবাদে বুধবার রাতেই দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ও দিনাজপুর সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করে। পরিস্থিতি নিরসনে বৃহস্পতিবার বিকালে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম তার সভাকক্ষে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ও জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের নেতাদের নিয়ে এক বৈঠক করেন। তবে কোনও সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা ভেস্তে যায়।
পরে এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ দেড়শ’ জনকে আসামি করে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করে সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ ও মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। আর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুই শ্রমিক নেতাসহ ৪৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামমলা দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুন- দিনাজপুরে ধর্মঘট চতুর্থ দিনে: অনড় অবস্থানে হাবিপ্রবি ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা








