বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করেছে শাজাহানপুর থানা পুলিশ। এ সময় অপহরণকারী চক্রের চার নারী সদস্যসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার (২৬ নভেম্বর) উদ্ধার করা দুই ভিকটিম ও পাঁচ অপহণকারীকে গাইবান্ধা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধার চাল ব্যবসায়ীরা হলেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার শিমুলতলা গ্রামের আবদুল হালিম (৫২) ও তার চাচাতো ভাই একই গ্রামের আমজাদ হোসেন (৫০)।
অপহরণকারীরা হলেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বীরপল্লী গ্রামের মুকুল শেখ (৩২), একই গ্রামের জয়া খাতুন (৩০), নন্দীগ্রাম হাসপাতাল পাড়ার রিনা খাতুন (২২), ঢাকরাইল গ্রামের রোকসানা (২৫) ও গোবিন্দগঞ্জ প্রধানপাড়ার রানী বেগম (৩৮)।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলাম জানান, শনিবার সকালে অপহরণকারী চক্রের সদস্য মুকুল শেখ মোবাইল ফোনে নিজেকে বড় চাল ব্যবসায়ী উল্লেখ করে গাইবান্ধার ধানচাল ব্যবসায়ী আবদুল হালিমের কাছে চাল বিক্রির প্রস্তাব দেন। ব্যবসায়ী হালিম তার কথায় বিশ্বাস করে চাল কেনার জন্য অপর ব্যবসায়ী তার চাচাতো ভাই আমজাদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার দুপুরে বগুড়ার শাজাহানপুরের শাকপালা মোড়ে আসেন। তখন ৪/৫ জন ব্যক্তি নিজেদের ধান চাল ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে তাদের নন্দীগ্রামে নিয়ে যান। তাদের নন্দীগ্রাম টিএমএসএস এনজিও অফিসের দোতলায় একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এরপর হালিমের ভাগ্নে শাহ আলম আকন্দকে ফোন করে ছয় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে দুজনকে হত্যার করে লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শাহ আলম আকন্দ গাইবান্ধা থানায় মামলা করেন। পরে বিষয়টি বগুড়ার শাজাহানপুর থানা পুলিশকে অবহিত করো হয়।
শাজাহানপুর থানার এসআই জাহাঙ্গীর কবির জানান, অপহরণকারীদের টাকা দেওয়া হবে জানালে তারা নন্দীগ্রাম পেট্রোল পাম্পের সামতে আসতে বলেন। শনিবার রাতে মুকুল টাকা নিতে এলে প্রথমে তাকে গ্রেফতার ও ভিকটিম হালিম এবং আমজাদকে উদ্ধার করা হয়। পরে মুকুলের স্বীকারোক্তিতে বীরপল্লীর বাড়ি থেকে জয়া খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়। পর্যায়ক্রমে রিনা খাতুন, রোকসানা ও রানী বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।








