গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে অর্থ দিবস হরতাল পালন করেছে এলাকাবাসী। অভিযুক্ত রুবেল মিয়া ও খুশু মিয়া পলাতক থাকায় দ্রুত তাদের গ্রেফতার দাবি করেছেন তারা।
শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে নলডাঙ্গা বাজারে হরতাল শুরু হয়। চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। হরতাল চলাকালে নলডাঙ্গা বাজারের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া হরতাল চলাকালে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী নলডাঙ্গা-সাদুল্যাপুর, নলডাঙ্গা-লক্ষীপুর ও নলডাঙ্গা-বামনডাঙ্গা সড়কের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে রাখেন। এসময় তারা সড়কে গাছের গুঁড়ি ও টায়ার জ্বালিয়ে দেন। এতে করে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
এদিকে, হরতাল চলাচলে অভিযুক্ত পলাতক দুই আসামিসহ গ্রেফতার করাসহ অপর গ্রেফতার হওয়া তিনজনের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানে খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী।
নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ঘটনার প্রতিবাদে নলডাঙ্গা বাজারে স্বতস্ফূর্তভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারসহ তাদের কঠোর শাস্তির দাবিতে জনগণ নিজে থেকে এ হরতাল পালন করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আরও কঠোর কর্মসূচি পালনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে, হরতালে সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন। এসময় উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, ‘ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই ছাত্রীকে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গ্রেফতার তিন আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি পলাতক দুই আসামিকেও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’ ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করার আশ্বাস দেন তিনি।
ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর চাচা বাদী হয়ে শুক্রবার (২২ ডিসম্বর) রাত দেড়টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সাদুল্যাপুর থানায় এ মামলা করেন। ওই স্কুলছাত্রী ও তার পরিবার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
বাদী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, তার ভাইয়ের মেয়ে শুক্রবার বিকালে তার মায়ের সঙ্গে নলডাঙ্গা বাজারে যায় কাপড় কিনতে। কাপড় কেনার পর মেয়েকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলে নিজের বাবার বাড়িতে চলে যান তার মা। এরপর স্কুলছাত্রী পায়ে হেঁটে একাই বাড়ি ফিরছিল। পথে সরকারি খাদ্য গুদাম এলাকায় আসলে নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক দুদু মিয়ার ছেলে সোহাগ তাকে আটকায়। এসময় সহযোগী শরিফুল, বাবু, রুবেল ও খুশু ওড়না দিয়ে মেয়েটির মুখ বেঁধে আখ ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের সময় চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে শরিফুল ও বাবুকে হাতেনাতে এবং পরে রেল গেটের দোকান থেকে সোহাগকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে স্থানীয়রা।
এর আগে, ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় জনতা। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতার ও তাদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন তারা। এসময় সোহাগের বাবা যুবলীগ নেতা দুদুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়।
আরও পড়ুন- স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা








