গাইবান্ধায় শীতের তীব্রতা: স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
৩০ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৯:১২আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৯:১৮





গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা শীতের তীব্রতায় গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালসহ ছয় উপজেলার হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে শিশুসহ বয়স্কদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, গরম কাপড় পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা জানিয়েছেন আক্রান্তদের ওষুধ ও স্যালাইনসহ দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা।

গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (উপ-পরিচালক) ডা. অমল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘শীতের তীব্রতায় রোটা ভাইরাস দেখা দেওয়ায় ডায়রিয়া ও নিমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। হাসপাতালে আসা বহির্বিভাগসহ ভর্তি রোগীদের ওষুধ ও স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে এ প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে শিশুসহ বয়স্কদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আর গরম কাপড় পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’

শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালসহ ছয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, তীব্র ঠাণ্ডায় ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এসব হাসাপাতালে ভর্তি আছেন অন্তত শতাধিক রোগী। হাসপাতাল ছাড়াও কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও সেবা নিচ্ছেন আক্রান্তরা।

গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের জন্য আসন রয়েছে ২০টি। কিন্তু প্রতিদিন এখানে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। গত মঙ্গলবার থেকে শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর পর্যন্ত গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে অন্তত শতাধিক রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। গত সাতদিনে এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে অন্তত দুই শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া ছয় উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও ভর্তি রয়েছেন শিশুসহ শতাধিক রোগী।

ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ না হওয়ায় শনিবার বিকালে হাসপাতালে ভর্তি হই। বর্তমানে স্যালাইন দেওয়ায় একটু সুস্থতা বোধ করছি।’

শুক্রবার দুপুর থেকে বারবার পাতলা পায়খানা ও বমি করায় ৬ বছরের মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করান খোলাবাড়ী গ্রামের সাইফুল ইসলাম। দুদিন ধরে চিকিৎসা নিলেও কোনও উন্নতি হয়নি বলে তিনি জানান।

আনোয়ারা বেগম জানান, শনিবার সকালে ডায়রিয়ার সঙ্গে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসেন তিনি। পরে চিকিৎসক তাকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর থেকে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। চিকিৎসক তাকে স্যালাইন ও ওষুধ দিয়েছেন।

গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের নার্স শেলী আহম্মেদ মাবুদ বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়াসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাছাড়া ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেডের সংখ্যা কম থাকায় সিঁড়ি ও ফ্লোরে বাকি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরছেন।’

আরও পড়তে পারেন:  ৯৯৯: মধ্যরাতে খুললো হাসপাতালের দরজা

 



 

/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম