‘আমি বঞ্চিতদের তালিকায়, নির্যাতিতদের তালিকায়। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমাকে আমান্ত্রণ না জানানোটাও এক ধরনের নির্যাতনই বলা চলে।’ কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণপত্র না পাওয়ায় এভাবেই দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন কুড়িগ্রামের বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিবাহিনীর কেওয়ান এফএফ কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল হাই । সোমবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই এভাবেই নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আব্দুল হাই জানান, আমি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায়ই এরকম উপেক্ষিত হই। কখনও দাওয়াত পেলেও আমাদের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বসার জন্য আলাদা কোনও ব্যবস্থা রাখা হয় না। ফলে দাওয়াতে গেলেও বিব্রত হতে হয়। আর এবারতো দাওয়াতই পেলাম না!’
আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের কাছেও মূল্যায়িত হননি জানিয়ে এই বীরপ্রতীক বলেন, ‘রক্ষী বাহিনী আমাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালিয়েছিল, এখনও আমি নানাভাবে নির্যাতিত। সরকার কর্তৃক আমিসহ ২৩ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সদর উপজেলার হলোখানায় ২৫ শতক করে খাস জমি দেওয়া হলেও সেটা নিয়ে দখলদার কর্তৃক আমাদের ৪টি মামলায় লড়তে হচ্ছে।’
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে একজন বীরপ্রতীকের আমন্ত্রণপত্র না পাওয়াটা দুঃখজনক জানিয়ে সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আব্দুল হাই বীর প্রতীক আমন্ত্রণপত্র পাননি, বিষয়টি সত্য। সোমবার বিকালে তার সঙ্গে আমার মোবাইলে কথা হলে আমি তাকে অনুষ্ঠানে আসতে বলি কিন্তু তিনি আসেননি।’
এদিকে সোমবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় কলেজ মোড়ে অবস্থিত বিজয়স্তম্ভ চত্বরে জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন না মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই।
এ ব্যাপারে জানতে জেলা প্রশাসক ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মোছা. সুলতানা পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি অনুষ্ঠানে থাকার কারণে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আাশরাফুল ইসলাম এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল। মুক্তিযোদ্ধাদের আমন্ত্রণপত্র দেওয়ার কাজটি আমার জন্য এবারই প্রথম। তাই কোনওভাবে এটি মিসিং হয়ে গেছে। আমরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বীর প্রতীক আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে কথা বলবো।’
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত হয় কুড়িগ্রাম। এদিন মুক্তিবাহিনীর কেওয়ান এফএফ কোম্পানি কমান্ডার বীরপ্রতীক আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে ৩৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দল বিকাল ৪টায় কুড়িগ্রাম শহরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা নতুন শহরের ওভারহেড পানির ট্যাংকের ওপরে (বর্তমান সদর থানার উত্তরে অবস্থিত) স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে চারিদিকে ছড়িয়ে দেন বিজয় বার্তা।








