শহীদ মাহাতাব বেগের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান পরিবার

নীলফামারী প্রতিনিধি
২৯ মার্চ ২০১৮, ১২:১০আপডেট : ২৯ মার্চ ২০১৮, ১২:১২

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব বেগ নীলফামারীর সৈয়দপুরে এখনও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মাহাতাব বেগ। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ সৈয়দপুরে প্রত্যক্ষ প্রতিরোধ (মুখোমুখি) যুদ্ধ শুরু হয়। এতে প্রথম শহীদ হন পাশের দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার (তৎকালীন থানা) সাতনালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহতাব বেগ।

শহীদ মাহাতাব বেগ স্মৃতি সংসদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সুজাউদ্দৌলা সুজা বলেন, ‘জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় প্রথম শহীদ হন মাহাতাব বেগ। অথচ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও শহীদ মাহাতাব বেগ ও তার পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। নতুন প্রজন্মের কাছে তার স্মৃতিকে ধরে রাখতে নির্মাণ করা হয়নি কোনও স্মৃতিস্তম্ভ। মাহাতাব বেগের নামে কোনও সড়ক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণও করা হয়নি।’  

তিনি বলেন, ‘শহরের মিস্ত্রি পাড়া এলাকায় তার নামে একটি গলিপথের নামকরণ করা হলেও, এখন তা ভিন্ন নামে পরিচিতি পাচ্ছে।’

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী ও মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও শহীদ পরিবারটির স্মৃতি রক্ষার্থে কোনও পদক্ষেপ নেই।’

শহীদ মাহাতাব বেগের ছেলে মির্জা মো. সালাউদ্দিন বেগ (৬৫) ও আব্দুর রশিদ বেগ (৭৫) বলেন, ‘১৯৭১ সালে ২৩ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্যাতনে সৈয়দপুরবাসী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। আমার বাবা (তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য) এসএম মাহাতাব বেগ ২৪ মার্চ শহরের পূর্বদিকে গোলাগুলি হওয়ার পর সকাল ১১টার দিকে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিয়ে শহরে অবরুদ্ধ বাঙালিদের মুক্ত করতে তার একনলা একটি বন্দুক ও একটি পিস্তল, বল্লাম, লাঠিসহ শহরের পশ্চিম দিকে আক্রমণ করেন। এই সময় শত্রুর গুলিতে তিনি শহীদ হন। ওই রাতে সাহেবপাড়ার বাসা থেকে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার পেইন্টশপের ইনচার্জ মনিরুজ্জামানকেও ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।’

তারা জানান, মূলত এটিই ছিল হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর সৈয়দপুরে অবাঙালিদের (বিহারী) বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রত্যক্ষ প্রতিরোধ যুদ্ধ। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে যোদ্ধা মাহাতাব বেগ আহত অবস্থায় ধরা পড়েন বিহারীদের হাতে। সেই সময় তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর তার শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা নিয়ে গোটা শহরে উল্লাস করে অবাঙালিরা।

শহীদ মাহাতাব বেগের স্ত্রী সালেয়া বেগম (৮৫) বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা আমার স্বামীর নামে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা সড়কের নামকরণ করা হলে মরেও শান্তি পেতাম।’

/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক