প্রাথমিক বিদ্যালিয়ের সহকারী শিক্ষিকার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার সময় রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ দল। সোমবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুরে বদলি করার আশ্বাস দিয়ে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় ওই কর্মকর্তার চেম্বারে এই ঘটনা ঘটে।
দুদকের ঢাকা বিভাগের পরিচালক নাসিম আনোয়ার জানান, ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার বালিহারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শারমিন আখতার সেখান থেকে রংপুর নগরী অথবা আশপাশের এলাকায় বদলির জন্য বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের কাছে আবেদন করেন। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিরাজুল ইসলাম তার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে গত সপ্তাহে শারমিন আখতার ওই কর্মকর্তাকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দেন। আজ সোমবার বাকি ৬০ হাজার টাকা ঘুষ দিলে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হবে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের ঢাকা থেকে বিশেষ দল আজ সকাল থেকে বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের আশপাশে অপেক্ষা করেন। পরে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে শারমিন আখতার ৬০ হাজার ঘুষ দিয়ে বের হওয়া মাত্র চেম্বারে প্রবেশ করে শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামকে ঘুষের ৬০ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়। এ সময় দুদকের বিশেষ দলের আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা তার সঙ্গে ছিলেন।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী দুদকের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ার বলেন, ‘গ্রেফতার হওয়া শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখেন। তিনি টাকা ছাড়া কোনও ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। বিশেষ করে বদলির আদেশ নিতে তাক ঘুষ দেওয়া না হলে তিনি আদেশ নামায় স্বাক্ষর করেন না। আমরা কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি মার্চ মাসের অনেক ফাইল তিনি স্বাক্ষর না করে ফেলে রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনেক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
এদিকে অভিযোগকারী শারমিন আখতার দুদকের একজন কর্মকর্তার আত্মীয় হওয়ায় তাকে ঠাকুরগাঁও থেকে রংপুরে বদলি না করায় দুদককে দিয়ে ট্র্যাপ করে ওই কর্মকর্তাকে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা জানান।








