ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়ার পরও ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট পরীক্ষা দিতে পারছেন না র ১০ শিক্ষার্থী। এজন্য তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করেছে। বিষয়টি জানিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগপত্র দিয়েছেন। শনিবার (১২ মে) থেকে এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার মনি বলেন, ‘ফরম পূরণের জন্য আমরা কলেজের স্যারের কাছে ৩ হাজার টাকা করে জমা দিয়েছি। কিন্তু তারা টাকা নেওয়ার পরও আমাদের ফরম পূরণ করেননি। বৃহস্পতিবার (১০ মে) কলেজে প্রবেশপত্র নিতে গেলে জানতে পারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রবেশপত্র পাঠায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জীবন থেকে এক বছর নষ্ট করে দেওয়ার দায় কে নেবে? শিক্ষক হয়ে তারা আমাদের শিক্ষা জীবন হুমকিতে ফেললেন। আমরা এর প্রতিকার চাই, আমরা পরীক্ষা দিতে চাই।’
প্রবেশপত্র না পাওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে ব্যর্থ হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছে ওই শিক্ষার্থীরা। এমনই একজন শিক্ষার্থী সাগর চন্দ্র বর্মন। কাঁদতে কাঁদতে সাগর বলেন, ‘আমরা সবাই ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েছি। অনেকে পরীক্ষা দিতে পারলেও আমরা দিতে পারছি না, আমাদের কী হবে!’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই কলেজ থেকে এবার ২৩ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না।
রৌমারী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সামিউল ইসলাম জীবন ফরম পূরণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভুলের কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে বিষয়টি জানান পরই আমি পরীক্ষা কন্ট্রোলারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তিনি কোনও ব্যবস্থা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগপত্র পাওয়ার কথা স্বীকার করে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় জানান, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা শুক্রবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমি বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’








