দিনাজপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত দুই জনই মাদক মামলার আসামি

দিনাজপুর প্রতিনিধি
২৮ মে ২০১৮, ১৯:৫২আপডেট : ২৮ মে ২০১৮, ১৯:৫৩

দিনাজপুর দিনাজপুরের বিরামপুরে ও বিরলে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত প্রবাল হোসেন গডফাদার এবং বাবু ওরফে গালকাটা বাবু মাদকের বড় ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে পুলিশ। দুই জনের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে।

গত ১৯ মে বিরলে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত বাবু ওরফে গালকাটা বাবুর বিরুদ্ধে মাদকের ৯টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে গত ২ বছরে ৫টি মাদকের মামলা হয়েছে। বিরল থানার ওসি আব্দুল মজিদ জানান, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এসব মামলা দায়ের করা হয়। সে ওই এলাকার মাদকের একজন বড় ধরনের ব্যবসায়ী। বাবু ওরফে গালকাটা বাবু বিরলের ফরাক্কবাদ ইউনিয়নের তেঘড়া নারায়নপুর গ্রামের মৃত. ওহাব আলীর ছেলে।

এলাকার আতিকুর রহমান জানান, বাবু মাদক ব্যবসা করতো এটি ঠিক। কিন্তু, আমরা শুনেছি ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হওয়ার একদিন আগে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

নিহতের ছেলে মাস্টার্সের ছাত্র আল-আমীন বলেন, ‘আমার বাবাকে ধরতে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ২ ডিবি পুলিশ মিল-চাতালে আসে। কিন্তু বাবাকে না পেয়ে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। পরে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বিরল থানা পুলিশ এসে বাবাকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর আর বাবার খোঁজ পাইনি। রবিবার সকালে জানতে পারি বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।’

ফরাক্কাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোসাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘বাবু মাদক ব্যবসায়ী ছিল, এটি নিশ্চিত। তবে কিছুদিন ধরে সে মাদক ব্যবসা কমিয়ে দিয়ে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল।’

২২ মে বিরামপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত প্রবাল হোসেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকের বড় বড় চালান নিয়ে আসতো বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। সে বিরামপুরের দক্ষিণ দামোদারপুর (বাসুদেবপুর) গ্রামের খলিল উদ্দিনের ছেলে।

বিরামপুর থানার ওসি আব্দুস সবুর জানান, প্রবাল হোসেন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে ৮টি মাদক মামলা রয়েছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, প্রবাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। এলাকার মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে সবাই তাকে চিনতো।

নিহত প্রবাল হোসেনের বাবা খলিল উদ্দিন জানান, নিহত হওয়ার একদিন আগে ২১ তারিখ বিকালে পুলিশ বাড়ি থেকে প্রবাল হোসেনকে আটক করে নিয়ে যায়। তাকে আটকের সময় তার সঙ্গে কোনও মাদক পায়নি পুলিশ। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও প্রবাল হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।

বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন, ‘প্রবাল মাদক ব্যবসায়ী ছিল। তবে একদিন আগে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এই বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। প্রবালসহ আরও বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী এই এলাকা দিয়ে মাদক পাচার করতো।’

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, উপরোক্ত দুই জনই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে বিরামপুরে নিহত প্রবাল হোসেন মাদকের গডফাদার। সে একাই ওই সীমান্ত এলাকার বড় বড় ১২/১৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে পরিচালনা করতো, এমন তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। তবে বিরলে নিহত বাবু ওরফে গাল কাটা বাবু মাদকের বড় ব্যবসায়ী, কিন্তু গডফাদার নন। গত ২ বছরের মধ্যে একাধিকবার তাকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু, সে বের হয়ে আবারও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। গত ২ বছরে তার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী