দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী শহর ও দেশের সবচেয়ে নিকটতম সীমান্ত হিলি। সীমান্তবর্তী শহর হওয়ার কারণে প্রতিটি ঈদেই হিলি বাজারের বিভিন্ন দোকানে শোভা পেতো ভারতীয় কাপড় চোপড়। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট খানিকটা ভিন্ন। সীমান্তে বিজিবি’র সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকায় ও কঠোর নজরদারির ফলে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান কমে গেছে। ফলে বর্তমানে হিলি বাজারের বিভিন্ন দোকানে শোভা পাচ্ছে দেশীয় বিভিন্ন ধরণের কাপড়। বেচাকেনাও বেশ ভালো বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
এ ব্যাপারে হিলি বাজারের পোশাক বিক্রেতারা জানান, হিলি একটি আকর্ষণীয় জায়গা,হিলিতে ভালো পোশাক পাওয়া যায়। এ ধারণা থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ কাপড় চোপড় কেনার জন্য হিলিতে আসে। এ কারণে ঢাকা থেকে আনা পাকিজা, পায়রা, বাটিক, অর্গেন্ডি, ইরানি ও মাখন জর্জেটসহ দেশীয় বিভিন্ন ধরনের থ্রিপিস ও শাড়ির কালেকশন রাখা হয়েছে। এছাড়া আমদানিকৃত পণ্যের খুব ভালো কালেকশন রাখা হয়েছে। হিলিতে থ্রিপিসের চাহিদাই বেশি। এবার সীমান্তে বিজিবি’র সিসি ক্যামেরা লাগানোর ফলে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কোনও ধরণের পণ্য আসছে না। এ কারণে দেশীয় পণ্যসহ আমদানিকৃত পণ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে দোকানে তোলা সম্ভব হয়েছে। যা ব্যবসায়ীদেরও জন্য ভালো।
হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হিলিতে ঈদের সময় ভারতীয় পোষাকের আলাদা একটা বাজার থাকতে হবে। আগে এ ধরণের একটা প্রবণতা ছিল। যে কারণে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ও চোরাচালানির মাধ্যমে প্রচুর ভারতীয় পণ্য দেশে আনা হতো। বর্তমানে সীমান্তে বিজিবির সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও মনিটরিং এর কারণে ভারতীয় পণ্য দেশে ঢুকতে পারছে না। অন্যদিকে সীমান্তে দায়িত্বরত সৈন্যদের কাজে অবহেলার ও চোরাচালানির কাজে সহযোগীতা করার কোনও সুযোগ নেই। এ কারণে চোরাচালানির মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য আসতে পারছে না। আর পণ্যই যদি না আসে তাহলে ভারতীয় পণ্যের বাজার বসবে কিভাবে, সেই কারণে দেশের অন্য প্রান্তে যেমন দেশীয় পণ্য পাওয়া যায় তেমনি এবার হিলিতেও দেশীয় পণ্য পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে হিলির বিভিন্ন হাট ও বাজারগুলিতে পোশাক তৈরির কারিগরসহ সংশ্লিষ্টরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। গ্রাহকদের পছন্দমত পোশাক তৈরি করতে তাদের যেন দমফেলার ফুরসত নেই, সময়মত পোশাকগুলি গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দিতে রাত দিন সমান তালে কাজ করছেন তারা। ঈদের এখনও ১৩ থেকে ১৪ দিন বাকি থাকলেও এখন থেকেই অনেকে কাজের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন আবার কেউবা কাজের চাপ বেশি থাকায় ২০ রমজান পর্যন্ত কাজের ওর্ডার নিবেন এর পরে বন্ধ করে দিবেন বলে জানিয়েছেন।








