বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ধরলা,তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ কুড়িগ্রামের সবক’টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দুই দিন ধরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সোমবার (২ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি ফেরিঘাট (সেতু পয়েন্ট) পয়েন্টে ৬৫ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৪৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টা ধরলা ও তিস্তা নদী ছাড়াও দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রাপ্ত পূর্বাভাস অনুযায়ী জেলার সবক’টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এতে করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে কিনা তা সোমবার (২ জুলাই) বিকাল নাগাদ বলা যেতে পারে।’
রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ কর্মকার জানান, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে তার ইউনিয়নের তিস্তার চরাঞ্চল গুলো ডুবতে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দুই-একদিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল জানান, যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে যেকোনও মহূর্তে বাড়িঘরে পানি উঠতে পারে।
দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এখনও এ নদী অববাহিকার গ্রামগুলো এখনও নিরাপদে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।
জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানিয়েছেন, ‘জেলায় এখনও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। তারপরও আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় যেকোনও ধরনের সহায়তার জন্য প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।’








