পঞ্চগড় কাষ্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয়ে সরকারি রাজস্বের অর্থ লোপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাস্টমসের একটি দুর্নীতিবাজ চক্র নিলামের প্রকৃত বিক্রয় মূল্যের চেয়ে কম মূল্য দেখায় সরকারি নথিতে, যাতে আদায় করা বাকি অর্থ আত্মসাৎ করা যায়। এ বিষয়ে তথ্য চাইলে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঞ্জুর রহমান সংবাদকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। স্থানীয় কয়েক জন যুবককে ডাকিয়ে এনে হয়রানি করান। সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তা এক পর্যায়ে ক্রসফায়ারের হুমকিও দেন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ১ জুলাই বিভিন্ন সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা ভারতীয় ৬টি গরু আটক করেন। পরে গরুগুলোকে পঞ্চগড় কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পঞ্চগড় কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ গত ২ জুলাই এসব গরু বিক্রির জন্য নিলাম ডাকে। প্রকাশ্যে নিলামে ওই ৬টি গরু ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কিনে নেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম। কিন্তু কাষ্টমস অফিসের ওই চক্রটি অকশন ডেলিভারি মেমোতে উল্লেখ করে দুই লাখ টাকার কথা, যা রাজস্ব হিসেবে সরকারের পাওয়ার কথা। অভিযোগ উঠেছে, নিলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা নিলাম মূল্যের বাকি ৫০ হাজার টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছে। প্রকাশ্যে গরুর নিলাম মূল্য আড়াই লাখ টাকা হলেও সরকারি কোষাগারে দুই লাখ টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়।
তাছাড়া, নিলামে ওই ৬ টি গরু আড়াই লাখ টাকায় বিক্রি হলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গরুগুলোর বাজার মূল্য ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা হওয়ার কথা। গরু ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম জানান, ‘আমি আড়াই লাখ টাকায় নিলাম থেকে গরুগুলো কিনেছি। এছাড়া নির্ধারিত মূল্যের কর বাবদ আরও ২২ হাজার টাকা দিয়েছি। সরকারি রাজস্বে কত টাকা জমা দেওয়া হয়েছে, সেটা আমার ব্যাপার না।’ নিলামের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পঞ্চগড় সদর থানার এসআই দীন মোহাম্মদ বলেছেন, প্রকাশ্য নিলাম গরু ছয়টির মূল্য বলা হয়েছে ২ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। তবে কাগজে কলমে কত নির্ধারিত হয়েছে তা তিনি জানেন না।
এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে কয়েকজন সংবাদকর্মী পঞ্চগড় কাষ্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেলের সহকারী কমিশনার মাহবুব আহমেদকে ফোন করেন। তিনি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মঞ্জুর রহমানের মোবাইল নম্বর দিয়ে তার সাথে কথা বলতে বলেন। সংবাদকর্মীরা মঞ্জুর রহমানকে ফোন দিলে তিনি তার অফিসে যাওয়ার কথা বলেন। অফিসে গেলে ওই কর্মকর্তা ক্ষেপে গিয়ে অশালীন আচরণ করেন সংবাদকর্মীদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কার পারমিশন নিয়ে অফিসে ঢুকেছেন? কাষ্টমস থেকে তথ্য নিতে হলে এনবিআরের অনুমতি লাগে। আপনি কি অনুমতি নিয়ে এসেছেন ? নাকি আপনি চাঁদা চাইতে এসেছেন? আপনাকে পুলিশে দেওয়া দরকার। আপনার লেখাপড়া কত দূর? আপনি কীভাবে সাংবাদিক হয়েছেন? আপনার কার্ড দেখান। আপনাকে ক্রসফায়ারে দেওয়া উচিত।’ এরপর কতিপয় যুবককে ডেকে এনে তিনি সংবাদকর্মীদের হয়রানি করান। এ ঘটনায় রংপুর বিভাগের কাষ্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
রংপুর বিভাগের কাষ্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার মোহাম্মদ আহসানুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সংবাদকর্মীরা যে কোন তথ্য চাইতে পারেন। এ ব্যাপারে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।








