ভারী বর্ষণ ও উজানে থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তার পানি বিপদসীমার পাঁচ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে ওই পয়েন্টে পানি ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সকাল ৬টার দিকে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ও সকাল ৯টায় ৫৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। বিকাল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের তিস্তা নদী বেস্টিত প্রায় ১৫টি চরাঞ্চল ও গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, লালমনিরহাট জেলার দোয়ানীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েণ্টে তিস্তা নদীর পানি আজ সকাল ৬টায় বিপদসীমার ৫ সেণ্টিমিটার, সকাল ৯টায় ৮ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এরপর বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিপদসীমার ৫ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
ডিমলা উপজেলার পুর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, ‘বুধবার দিবাগত রাত থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) আমাদের ইউনিয়নের ১০টি গ্রামসহ বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে। এতে প্রায় সাড়ে সাতশত পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।’
উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি, পূর্ব খড়িবাড়ি, উত্তর খড়িবাড়ী, দক্ষিণ খড়িবাড়ী, টাপুরচর, ঝিঞ্জিরপাড়া ও মেহেরটারি গ্রামের ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল আলম চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বুধবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। আজ তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সব কয়টি (৪৪টি) স্লুইচ গেট (জলকপাট) খুলে রাখা হয়েছে।








