চাষ কমলেও পাটের বাম্পার ফলন নীলফামারীতে

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী
০৭ জুলাই ২০১৮, ১৬:৪৮আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৮, ১৬:৪৮





নীলফামারীর পাটক্ষেত উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম কম পাওয়ায় পাট চাষে কিছুটা আগ্রহ হারিয়েছেন নীলফামারীর কৃষকরা। তবে যেসব কৃষক এ বছর পাট চাষ করেছেন তারা বাম্পার ফলন পেয়েছেন। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। দাম ভালো পেলেই তাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা সদরের রামনগর, কচুকাটা, পঞ্চপুকুর, ইটাখোলা, সংলশী, চড়াইখোলা, চাপড়া, সোনারায়, টুপামারী,পলাশবাড়ী ও খোকশাবাড়ী ইউনিয়নে পাট ক্ষেতের সমারহ।এসব এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠ ঘুরে দেখা যায়, সবুজ পাটগাছগুলো বাতাসে দোল খাচ্ছে। হাঁটু ছাড়িয়ে মাথা বরাবর উঠে গেছে গাছগুলো। চলতি মাসের শেষের দিকে পাট ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় পার করবেন কৃষকরা।

নীলফামারীর পাটক্ষেত
উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া, চড়চড়াবাড়ী, রামনগর, বিশমুড়ি ও কচুকাটা ইউনিয়নের বাওনাবাউনি ও দোনদরী গ্রামের চিত্রও একই রকম। এ ছাড়া পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের উত্তরা শশী, কিশামত পঞ্চপুকুর, জামতলা, আরাজী মানুষ মারা গ্রামেও চোখে পড়ে পাট ক্ষেতের মনোরম দৃশ্য। কৃষকরা আশা করছেন, বাম্পার ফলনের সঙ্গে এবার ন্যায্য মূল্য পাবেন তারা।
জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের কৃষক তছলিম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সঠিক সময়ে জমিতে বীজ বপন করতে পারায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পেলেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।’

নীলফামারীর পাটক্ষেত
একই ইউনিয়নের কৃষক ও চাঁদের হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আশরাফ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাটের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে কৃষকদের দুঃশ্চিন্তা থাকলেও এবার পাট পচানো নিয়ে চিন্তা নেই। কেননা বৈশাখের শুরু থেকেই বৃষ্টি হওয়ায় খাল বিল থৈ থৈ করছে পানিতে। এখন অপেক্ষা পাট কেটে পঁচান দিয়ে আঁশ ছাড়িয়ে রোধে শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করা।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি জেলা সদরে পাটের চাষ কম হলেও জেলার অন্যান্য উপজেলায় পাটের চাষ বেশি হয়েছে। কৃষকরা মনে করেন, এ বছর সঠিক সময়ে পরিমাণ মত বৃষ্টি ও আবহওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন গত কয়েক বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে।

নীলফামারীর পাটক্ষেত
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, চলতি মৌসুমে পাটের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, ১০ হাজার ৪৬০ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে নয় হাজার ১৬০ হেক্টর। অর্জিত পাটের ফলন ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৫৩১ মেট্রিকটন। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর আবাদ কিছুটা কম হলেও, ফলন তুলনামূলক ভালো হয়েছে বলে মনে করেন কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষকরা বলছেন, ফলনের পাশাপাশি দামও যদি ভালো পাওয়া যায়, তবে আগামীতে পাট চাষ আরও বাড়বে।

/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম