মিথ্যা মামলায় দিয়ে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি এসএম সাদিক হোসেনকে গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশের অপকর্মে সংবাদ প্রকাশ করায় মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
শনিবার (২৮ জুলাই) উপজেলার কর্তিমারী বাজার এলাকা থেকে সাদিককে গ্রেফতার করা হয়।
সাংবাদিককে কী কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে-এ প্রশ্নের জবাবে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গ্রেফতারের সঠিক কারণ আমি জানি না। তবে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও মাদকের দু’টি মামলা রয়েছে। সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে গ্রেফতার করেছে।’
ওই দুই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আখতার হোসেন বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। ওসি স্যার আমাকে ওই সাংবাদিককে থানায় নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন।’
সাংবাদিক গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলা সাংবাদিকরা। রাজীবপুর প্রেসক্লাব সভাপতি কুদ্দুস বিশ্বাস ও রৌমারী প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন নিন্দা জানিয়ে বলেন,ওসি জাহাঙ্গীর আলমের অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ করায় সাদিককে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। এমন আরও কয়েকজন সাংবাদিকের নামেও মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
তবে ওসি জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম ও আটক বাণিজ্যের অভিযোগ সরেজমিনে অনুসন্ধান করার জন্য পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এআইজি (ডিঅ্যান্ডপিএ-২) ওমর ফারুক রৌমারীতে অবস্থান করছেন।
সাদিকের স্ত্রী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, এই অনুসন্ধান কাজকে বাধাগ্রস্ত করতেই সাদিককে গ্রেফতার করেছেন ওসি। কারণ সাদিকের কাছে ওসির বিভিন্ন অপকর্মের তথ্য প্রমাণ রয়েছে। তিনি যাতে এগুলো তদন্ত কর্মকর্তার হাতে পৌঁছাতে না পারে সেজন্যই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় এমপি রুহুল আমিন জানান, সাংবাদিক সাদিক ওসির নানা অপকর্মের তথ্য প্রমাণের কাগজপত্র নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে যাওয়ার সময় তাকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।








