প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ আগামী নির্বাচনে তাকে শেষ বারের মতো ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার রংপুর কালেক্টরেট ঈদ গাহ মাঠে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করার আগে সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন,‘এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন, তাই শেষ বারের মতো রংপুরের জনগণের সেবা করে মরতে চাই।’
অন্যদিকে, রংপুরের ৬টি আসনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঈদের জামাত আদায় ও দোয়া করেন এবং মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এর পর তারা নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় গরু কোরবানি দিয়ে দুস্থ মানুষদের মাঝে মাংস বিতরণ করেন।
এরশাদ আরও বলেন, ‘রংপুরের মানুষের ঋণ আমি কোনও দিন শোধ করতে পারবো না। তারা আমাকে ৫টি আসনে দুবার এবং বার বার রংপুর সদর আসনে বিপুল ভোটে জয়ী করেছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আর একবার জনগণের সেবা করার সুযোগ চাই।’
রংপুর সিটি মেয়র ও মহানগর জাপার সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহাম্মেদ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের নেতারাসহ হাজার হাজার মানুষ ঈদের নামাজে অংশ নেন। নামাজ আদায় শেষে এরশাদ নগরীর পল্লী নিবাস বাসভবনে দলের নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরশাদ এবার ৯টি গরু কোরবানি দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫টি গরু তার বাসায় এবং ২টি নগরীর সেন্ট্রাল রোডের দলীয় কার্যালয়ে ও ২টি নগরীর এরশাদ নগরে দিয়েছেন। পরে দলের নেতারা এ মাংস দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করেন। জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক এরশাদের ৯টি গরু কোরবানি দেওয়া কথা জানান।
এরশাদ আগামী নির্বাচনে রংপুর সদর ৩ আসন থেকে অংশ নেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
রংপুর ২ আসনের বর্তমান এমপি ডিউক চৌধুরী আজ সকালে বদরগজ্ঞ উপজেলার বিষ্ণপুর ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে তিনি মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি দুটি গরু কোরবানি দিয়েছেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান। এদিকে রংপুর ২ আসনে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী সাবলু চৌধুরী উপজেলা সদর ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করেন। পরে তিনি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। তবে বিএনপির কোনও নেতাকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়নি।
রংপুর ১ আসন গঙ্গাচড়ায় ঈদের নামাজ আদায় করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও জাপা জেলা সভাপতি মশিয়ার রহমান রাঙ্গা। তিনি গঙ্গাচড়া উপজেলা সদর ঈদগাহে নামাজ আদায় করেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি সবার দোয়া চান। পরে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। রংপুর ১ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান বাবলু ঈদের নামাজ আদায় করার পর তার বাসায় দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এখানেও বিএনপির কোনও সম্ভাব্য প্রার্থীকে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়নি।
রংপুর ৪ আসনের বর্তমান সাংসদ আওয়ামী লীগের টিপু মুন্সি এবার তার নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করে ঈদ উদযাপন করেন। তিনি তার বাসায় দলের নেতা কর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। একইভাবে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী সেলিম বেঙ্গল ও সিরাজুল ভরসা পৃথকভাবে হারাগাছে ঈদের নামাজ আদায় শেষে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। তবে বিএনপির পক্ষে কোনও নেতাকে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়নি।
রংপুর ৫ আসন মিঠাপুকুরে বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা এইচ এন আশিকুর রহমান উপজেলা সদরে ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সেখানে তিনিও মুসল্লিদের কাছে দোয়া চান। পরে তিনি বাস ভবনে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। জাতীয় পার্টির সম্ভব্য প্রার্থী ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর বলদীপুকুর ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন। পরে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন শঠিবাড়ি ঈদগাহ মাঠে নামাজ আদায় করেন ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রংপুর ৬ আসন পীরগঞ্জে জাতীয় সংসদের স্পিকার ঈদের আগে এলাকায় এসে ব্যাপক জন সংযোগ করেন। তবে ঈদে তিনি সেখানে আসেননি। তার পক্ষে দলের নেতারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। বিএনপির দুই সম্ভাব্য প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মণ্ডল ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিজ নিজ এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করেন। পরে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তারা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।








