লো-ভোল্টেজ আর লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে নীলফামারীতে। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি নষ্টসহ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের এমন অবস্থায় বিপর্যস্ত জনজীবন। গত এক মাস ধরে বিদ্যুতের এ অবস্থার জন্য কল-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
জেলা শহরের মেসার্স সামসুল অটোরাইস মিলের মালিক সামসুল হক বলেন, ‘লো-ভোল্টেজের কারণে আমার রাইস মিল চলছে না। এতে প্রতিদিন লোকসান হচ্ছে প্রায় চার লাখ টাকা। ঝুঁকি নিয়ে মিল চালাতে গিয়ে মোটরসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। মিল বন্ধ থাকায় এক হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘এ অবস্থা চলছে গত রোজার মাস থেকে। ২১ জুলাই থেকে সমস্যার কিছুটা সমাধান হলেও চলতি মাসের ৬ তারিখ থেকে আবারও সেই লো-ভোল্টেজের সমস্যা। এ অবস্থা আর কিছুদিন চললে লোকসানের ভারে মিল মালিকরা ঋণখেলাপি হবেন।’
জেলা সদরের নূহা অটো রাইস মিলের মালিক সৈয়দ রাকিব হাসান মিশুক বলেন, ‘আমার মিলে দেড় শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। চলতি মাসের প্রথম থেকে লো-ভোল্টেজের কারণে মিল বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের বসিয়ে রেখে বেতন দিতে হচ্ছে। ফলে আমার মিলে প্রতিদিন লোকসান হচ্ছে পাঁচ লাখ টাকার বেশি।’
তারা জানান, জেলায় এমন অটো রাইসমিল রয়েছে ২১টি। রয়েছে একটি সিরামিক ও একটি টাইলস কারখানাসহ ছোটবড় অনেক শিল্প কল-কারখানা। বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়াসহ শুধু অটোরাইস মিলে প্রতিদিন লোকসান হচ্ছে প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা। পাশাপাশি অন্য কল-কারখানার লোকসানসহ প্রতিদিন জেলায় পাঁচ কোটি টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে।
ওই মিলের শ্রমিক রহিদুল ইসলাম বলেন, লো-ভোল্টেজের কারণে প্রায় বন্ধ হয়েছে বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা বাণিজ্য। চলতি মাসের প্রথম দিক থেকে লো-ভোল্টেজে দিনে রাতে মেশিন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’
জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের বাদিয়ার মোড় এলাকার প্লাস্টিক কারখানার মালিক কাল মিয়া বলেন, ‘লো-ভোল্টেজ আর ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বন্ধ হয়েছে পণ্য তৈরি।’
জেলা শহরের নিউ বাবু পাড়ার গৃহিণী ফেরদৌসি বেগম বলেন, ‘যেটুকু সময় বিদ্যুৎ থাকে লো-ভোল্টেজে লাইট জ্বালানো দায়। ফ্যানের গতিবেগ নেই বললে চলে। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ পরিবারের সবাই। লো-ভোল্টেজের কারণে ফ্যান, ফ্রিজ, টিভি, লাইটসহ বিভিন্ন বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে।’
এ বিষয়ে জানতে নীলফামারী নেসকো লিমিটেডের বিদ্যুৎ বিতরণ বিপণন কেন্দ্রে গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। সেখানে কর্তব্যরতরা জানান, নেসকোর সৈয়দপুর বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ২৬ জুলাই থেকে নীলফামারীর দায়িত্বে রয়েছেন। বিশেষ কাজে তিনি নীলফামারীতে আসেন। এছাড়া স্বাভাবিক কাজ কর্ম তিনি সেখানে বসেই করছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের নেসকোর নীলফামারী বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী এসএম মোহাইমিনুর রহমান মিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সৈয়দপুর বাদে গ্রাহক সংখ্যা ৬৬ হাজার। বিদ্যুৎ চাহিদা ২৬ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ১৪-১৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লো-ভোল্টেজ হচ্ছে। পিক আওয়ারে শহরের ৫টি ফিডারে পর্যায়ক্রমে এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। আর দিনের বেলায় যে বিভ্রাট সেটি সৈয়দপুর গ্রিড থেকে ঘটছে।’
তিনি আর বলেন, যেসব স্থানে পাওয়ার স্টেশন আছে সেখানে সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাকি আছে। কিন্ত নীলফামারীতে কোনও পাওয়ার স্টেশন না থাকায় সমস্যা বেশি প্রকট হয়েছে। জেলা শহরে পাওয়ার স্টেশনের প্রয়োজন আছে।








