থানায় বসেই যৌতুকের টাকা নির্ধারণ!

দিনাজপুর প্রতিনিধি
২৯ আগস্ট ২০১৮, ০৩:০২আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৮, ০৩:০৩

দিনাজপুর যৌতুক লেনদেনের বিরুদ্ধে আইনি সহায়তা দেওয়ার বদলে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানায় বসেই নির্ধারিত হয়েছে যৌতুকের টাকার পরিমাণ। আর এর মধ্যস্থতা করেছেন ওই থানার একজন উপ-পরিদর্শক। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারেসুল ইসলাম বলছেন বিষয়টি তদন্ত করে খতিয়ে দেখছেন তারা।
জানা গেছে, জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের পূর্ব সুরইল সাহাপাড়ার মৃত পুলিন চন্দ্র রায়ের ছেলে জয়ন্ত কুমার রায় একই ইউনিয়নের ঢাকইল ভরসাপাড়ার কাচুরাম রায়ের মেয়ে ঊষা রানী ওরফে সোনালীর সঙ্গে একটানা আট বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। জয়ন্ত বর্তমানে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক নবাবগঞ্জ শাখার ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং সোনালী দিনাজপুর সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শেষ বর্ষের ছাত্রী হিসেবে অধ্যয়নরত।

গত ১০ আগস্ট জেলার পার্বতীপুর উপজেলার ভবের বাজার এলাকার মনোরঞ্জন রায়ের মেয়ের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকা যৌতুক চুক্তিতে ১০ লাখ টাকা নগদ গ্রহণ ও একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে বিয়ের আশীর্বাদ গ্রহণ করেন জয়ন্ত। এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সোনালী বাদী হয়ে গত ২৫ আগস্ট চিরিরবন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ গত ২৭ আগস্ট ভোরে জয়ন্তকে ভাড়া বাসা থেকে আটক করে চিরিরবন্দর থানায় পাঠায়। আটকের সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মনোরঞ্জন রায় চিরিরবন্দর থানায় গিয়ে জয়ন্তকে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি তার মেয়েকে জয়ন্ত কুমারের সঙ্গে আর বিয়ে দেবে না বলে জানিয়ে দেন।

আটকের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনভর দফায় দফায় বৈঠক হলেও সারাদিনে কোনও সুরাহা হয়নি। অবশেষে রাতে চিরিরবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক তাজুল ইসলামের মধ্যস্থতায় তিন পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে পুনরায় থানায় বৈঠক শুরু হয়। এ সময় প্রস্তাব আসে যে পরিমাণ টাকা মনোরঞ্জন যৌতুক হিসেবে জয়ন্ত কুমারের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন সে পরিমাণ টাকা দিলে সোনালীর সঙ্গে জয়ন্তর বিয়ে হবে। কিন্তু সোনালীর বাবা এত টাকা যৌতুক দিতে পারবে না বলে উপস্থিত সবার সামনে ক্ষমা চান। পরে উপ-পরিদর্শক তাজুল ইসলামের মধ্যস্থতায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা যৌতুক নির্ধারণ হয়।  অবশেষে সোনালীর বাবা ওই মজলিসে যৌতুক বাবদ নগদ ৪০ হাজার টাকা জয়ন্তকে দিলে রাতেই থানার পাশ্ববর্তী একটি কালী মন্দিরে জয়ন্ত ও সোনালীর বিয়ে দেওয়া হয়।

থানার গোলঘরে বসে আইনি সহায়তার নামে যৌতুক নির্ধারণ ও লেনদেনের ব্যাপারে উপ-পরিদর্শক তাজুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি বিষয়টি মীমাংসা করেছেন মাত্র।

চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারেসুল ইসলাম বলেন, ‘উপ-পরিদর্শক তাজুল ইসলামকে আইনিভাবে সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। যৌতুকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে এটি হয়তো সঠিক নয়।’ এরপরেও বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ কর্মকর্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

/জেজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম