নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় একটি চা দোকানে গাছের শেকড়ের রস খেয়ে একজনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থ হয়েছেন তিন জন। নিহত নাজমুল হক (২২) ভ্যান চালক। শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে হরিণচড়া ইউনিয়নের ধরনীগঞ্জ হাটে ঘটনাটি ঘটেছে।
ডোমার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহীম খলিল বাংলা ট্রিবিউনকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
হরিণচড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ধরনীগঞ্জ হাটের চা দোকানদার সাইফুল ইসলামের দোকানে গাছের শেকড়ের যৌন উত্তেজক রস খাওয়ার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে নাজমুল হক মারা যায়।’
নাজমুল হক হরিণচড়া ইউনিয়নের শেওটগাড়ী গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
অসুস্থ তিন জন হলো- উপজেলার শেওটগাড়ী গ্রামের নরেন্দ্র নাথের ছেলে জয়ন্ত রায় (৩৬), হরিহরা গ্রামের রায়হানের ছেলে ফরহাদ আলী (৪০) ও মোহাম্মদ আলী (৩৮)।
জয়ন্ত কুমার রায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং ফরহাদ আলী ও মোহাম্মদ আলী দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, চা দোকনদার সাইফুল ইসলাম নিজ দোকানে বিভিন্ন গাছের শেকড় দিয়ে বানানো যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরি করে বিক্রি করেন। তারা ওই ওষুধ খাওয়ার ঘণ্টা খানেক পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমুল ও জয়ন্তের অবস্থার অবনতি হলে রাত ২টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। রংপুর হাসপাতালে নেওয়ার পথে নাজমুল হকের মৃত্যু হয়।
নাজমুল হকের বাবা আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে ডোমার থানায় শনিবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
ডোমার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহীম খলিল জানান, রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাজমুল হকের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহফুজ আলী বলেন,‘নাজমুল হকের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
সিভিল সার্জন রনজিত কুমার বর্মন বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে ছয়-সাত দিন সময় লাগবে।’








