পঞ্চগড় জেলার বোদা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক রাজুকে ৬ মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করাসহ ওই শিক্ষককে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট বোদা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক রাজুর বোদা থানাপাড়ার বাসায় প্রাইভেট পড়তে গিয়ে ওই শিক্ষার্থী শ্লীলতাহানির শিকার হন।
জানা গেছে, বোদা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের থানাপাড়ার বাসায় প্রাইভেট পড়তো ওই ছাত্রী। গত ২৬ আগস্ট ওই ছাত্রী প্রাইভেট পড়তে যায়। তখন অন্য সহপাঠীরা না আসায় চলে আসতে চাইলে ওই শিক্ষক বসতে বলেন। বাসায় কেউ না থাকায় একপর্যায়ে তার শ্লীলতাহানি করে শিক্ষক রাজ্জাক। পরে ওই ছাত্রী বাসায় গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়।
এই ঘটনা অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুলকে জানায় এবং একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরেও লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ওই স্কুলছাত্রী।
ওই স্কুলছাত্রী জানান, ওই শিক্ষক তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে ওই ছাত্রী। বিদ্যালয়ের সব ছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশা করেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম সাবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, ‘অভিযোগের পর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকমণ্ডলীর জরুরি সভা আহ্বান করি। সভায় শিক্ষক রাজ্জাককে ৬ মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মাহমুদ হাসান বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








