বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শাফিয়া খানমের সঙ্গে জেলা পরিষদ সদস্য ও একই সংগঠনের নেত্রী পারভীন আখতারের হাতাহাতি এবং চুলাচুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় নেত্রী পরস্পরকে বাজে ভাষায় গালাগাল করেন। সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। দুই নেত্রী ঘটনার জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার দিকে জেলা পরিষদ সদস্য পারভীন আখতার রংপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফিয়া খানমের চেম্বারে যান। তিনি এ সময় জেলা পরিষদের অধীন বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের ৩টি প্রকল্প তাকে দেওয়ার দাবি জানান। এ নিয়ে প্রথমে দুই নেত্রীর বাদানুবাদ হয়। পরে একে অপরের সঙ্গে চুলোচুলি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদ সদস্য পারভীন আখতার জানান, জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বিশেষ করে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের কয়েকটি প্রকল্পের বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ করতে যাই। এ নিয়ে দু’জনে কথা বলার সময় হঠাৎ করে চেয়ারম্যান আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। পরে তিনি অ্যাশট্রে দিয়ে আমাকে ঢিল মারেন। এ সময় তিনি আমাকে মারধর করেন ও পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন। পরে আশপাশের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করেন। তিনি এ ঘটনার জন্য চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, ‘আমি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবো।’
ঘটনার সময় উপস্থিত জেলা পরিষদ সদস্য রমজান আলী জানান, দুই পক্ষকেই আমি নিবৃত করার চেষ্টা করি। তবে তাতে সফল হতে পারিনি। তিনি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের আচরণকে স্বৈরাচারী উল্লেখ করে বলেন, প্রতিবাদ সভা করে আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফিয়া খানম বলেন, আমি অফিসে বসে ছিলাম। এ সময় জেলা পরিষদ সদস্য পারভীন আখতার এসে তার নামে ৩টি প্রকল্পের কাগজ ঠিক করে দেওয়ার দাবি জানান। আমি বলি- সভা না করে কোনও সিদ্ধান্ত দিতে পারবো না, ২৬ সেপ্টেম্বর মাসিক সভায় আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। কিন্তু সে কোনও কথা না শুনে এখনই কাগজ পরিবর্তন করার জন্য চাপ দেয়। তার কথা না শোনায় আমাকে বাজে ভাষায় গালাগাল করে। সে আমার গলার স্বর্ণের চেইন ছিঁড়ে ফেলে এবং আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। বাধ্য হয়ে আমি অফিস থেকে বাসায় চলে আসি।
এ ঘটনায় থানায় কোনও অভিযোগ করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি ‘না’ সূচক জবাব দেন।








