শারদীয়া দুর্গোৎসবের বাকি মাত্র আর পাঁচদিন। পূজাকে সামনে রেখে দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা হিলিতে ২০টি পূজা মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রতিমা রং ও সাজসজ্জার কাজ। এ কারণে এখন দম ফেলার ফুসরত নেই প্রতিমা গড়ার কারিগরদের। গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের ব্যস্ততা
হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে ১৯টি মণ্ডপে শারদীয় দূর্গাপূজা উদযাপিত হলেও এবারে হাকিমপুর উপজেলায় ২০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা উদযাপন করা হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মন্দিরগুলোতে চলছে প্রতিমা রং ও সাজসজ্জার কাজ। প্রতিমা তৈরির কারিগরদে যেন দম ফেলানোর সময় নেই। তাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা বিরাজ করছে কে কার চেয়ে ভালো কাজ করতে পারে।
প্রতিমা তৈরির কারিগর শ্রীদাম পাল বলেন, ‘এবারে ৭টি প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। এরমধ্যে হিলিতেই তিনটির কাজ করছি। তিন মাস ধরে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ করেছি। গত ১০ দিন ধরে রঙের কাজ শেষের পর এখন চলছে প্রতিমা সাজসজ্জার সাজ। যেটুকু বাকি রয়েছে ষষ্ঠি পূজার আগেই তা শেষ করবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘দর্শণার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে প্রতিবছরই প্রতিমার মডেল কিছুটা পরিবর্তন করা হয়, এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। আগের তুলনায় প্রতিমা তৈরির কাজ খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। রঙের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারনে প্রতিমা তৈরিতে তেমন পড়তা নেই। তারপরেও বাব-দাদার পেশা ছাড়তে পারছি না। কোনোরকমে চালিয়ে নিতে হচ্ছে।’
হিলির গোহাড়া সাবর্জনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী জনার্দন চন্দ্র রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবারে মা দুর্গা দেবী আসছেন ঘটে করে আর দোলায় করে উনি চলে যাবেন। এখানে আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে কোনো সমস্যা হয় না। আমরা প্রতিবছর সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে শারদীয় দুর্গা পূজা পালন করে থাকি। এবারও তার ব্যাতিক্রম হবে না।’
হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা পূজা উদযান পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক অলক কুমার বসাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবারে হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় ২০টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রতিটি প্যান্ডেলে প্রতিমা রং করার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন চলছে প্রতিমা সাজসজ্জার কাজ। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতা করে থাকেন। এতে করে এখানে পূজা উদযাপনে কোনও সমস্যা হয় না।’
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হাকিমপুর উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালন করতে পারে নেজন্য কমিউনিটি পুলিশ, স্থানীয় ভলেন্টিয়ার ও পূজা কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে সভা করেছি। সেইসঙ্গে উপজেলার সব পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেছি। প্রতিটি পূজা মণ্ডপগুলোতে পুলিশ, আনসার ভিডিপি সদস্যসহ স্থানীয় ভলেন্টিয়ার মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও মহিলারা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা মণ্ডপগুলোতে যেতে পারে সেজন্য মহিলা আনসার ও মহিলা পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।’







