নীলফামারী সদরে ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩ লাখ আট হাজার ৮২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৭৯ জন এবং নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৪৫ জন।
নীলফামারী-২ আসনে বরাবরই নৌকা প্রার্থীর বিজয় হয়। এই আসনটি আওয়ামী লীগের পোক্ত ঘাঁটি। এ আসনে টানা তিন মেয়াদে সংসদ সদস্য ছিলেন আসাদুজ্জামান নূর। ক্ষমতাসীন দলের সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এই আসনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন।
এখন পর্যন্ত একাদশ নির্বাচনকে ঘিরে মহাজোটের বিকল্প কোনও প্রার্থীর দেখা মেলেনি। তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীতা নিয়ে বিএনপি জামায়াতের মধ্যে চলছে তুমুল টানা হেচড়া। তবে স্বস্তিতে রয়েছেন আওয়ামী লীগ। এই আসনে বিএনপি জোটের মনোনায়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন, নীলফামারী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান ও জেলা জামায়তের নায়েবে আমির মনিরুজ্জামান মন্টু।
নূর বলেন,‘এলাকার মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে তিনবার নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছে। তাদের ঋণ আমি শোধ করতে পারবো না। তবে সেই প্রতিশ্রুতি আস্তে আস্তে পূরণ করে যাচ্ছি। পর্যায় ক্রমে শেষ করা হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, ‘আসাদুজ্জামান নূর আমাদের জেলার উন্নয়নের কাণ্ডারি। তার কোনও বিকল্প প্রার্থী নেই। এ ছাড়াও শুধু আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নয়, জেলার দলমত নির্বিশেষে সবাই উনাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নিয়ে ভাবছে না আওয়ামী লীগ। মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নূর ভাইয়ের ওপর তাদের ভরসা আছে।’
জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ পারভেজ বলেন,‘এই আসনে জাতীয় পার্টি বরাবরই আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে আসছে। জোটগত হওয়ায় এ জন্য আলাদাভাবে কোনও প্রার্থী নির্ধারণ করিনি। তবে আলাদাভাবে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে গেলে সে ক্ষেত্রে প্রার্থী দেওয়া হবে।’
বিএনপি রংপুর বিভাগীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান জামান একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রস্ততির বিষয়ে বলেন,‘নীলফামারীতে বিএনপি এখন অনেক শক্তিশালী। সাংগঠনিকভাবে ভোটার, কর্মী ও নেতার সংখ্যা বেড়েছে। আমরা চাই এবার এই আসনে বিএনপির প্রার্থীকে জোটগতভাবে মনোনয়ন দেওয়া হোক। কারণ অতীতে জামায়াত এই আসনে নির্বাচন করে জয়লাভ করতে পারেনি। কিন্ত এবার মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চায়। এবার সারাদেশে বিএনপির গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, এখানে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জনগণ নির্বাচিত করবে। তবে বিএনপিকে ছাড় দিতে নারাজ সাবেক জোটের শরীক দল জামায়াতে ইসলামী। ফলে ঘরের শত্রু এখন জামায়াত। নিজেদের মধ্যে এখন টানা হেচড়া চলছে।'
জেলা জামায়তের নায়েবে আমীর মনিরুজ্জামান মন্টু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, `প্রতিবারেই নীলফামারী-২ ও ৩ আসনে জামায়াত থেকে প্রার্থীকে দেওয়া হয়। আশা করি এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। জোটগতভাবেও আসনটি আমরাই পাবো।’
তিনি আরও বলেন, `সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, দুই আসনেই জামায়তের প্রার্থী বিজয় হবে। এ ছাড়াও এবার জামায়তের অনেক ভোটার বেড়েছে। তা প্রমাণিত হবে ভোটের দিন। বিএনপির তুলনায় জামায়তের এই আসন দুইটিতে ভোট ব্যাংক বেশি রয়েছে।'








