মনোনয়নপত্র বাতিলের আশঙ্কা থেকে গাইবান্ধার প্রত্যেকটি আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা একাধিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। মোট পাঁচটি আসনে বিএনপির ৩২ জন মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ থেকে নিয়েছেন ৫১ জন। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, প্রবীণদের সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের বৈষম্য ও পদধারী প্রভাবশালীদের কারণে মনোনয়নপ্রত্যাশী বেড়েছে বলে আওয়ামী লীগের এক নেতা মন্তব্য করেছেন।
গাইবান্ধা-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ড. মিজানুর রহমান মাসুম বলেন, ‘আসন প্রতি বাছাই করে একজনই মনোনয়ন নিতে পারতো, কিন্তু কোনও কারণে হামলা বা মামলায় প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে। এ আশষঙ্কায় অনেক আসনেই একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী দলের মনোনয়ন নিয়েছেন।’
গাইবান্ধা-৩ আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য নুরুল ইসলাম প্রধান বলেন, ‘গাইবান্ধা-৩ আসনে দলের মনোনয়ন নিয়েছেন ২০ জন প্রার্থী। অথচ ২০ জনের অনেককেই আমি চিনি না। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, প্রবীণদের সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের বৈষম্য ও পদধারী প্রভাবশালীদের কারণে মনোনয়নপ্রত্যাশী বেড়েছে।’
সাদুল্যাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রায়হানুল হক বরাট বলেন, ‘দলীয় কোন্দল, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের বিপরীতে একাধিক ডামি এবং গ্রহণযোগ্যতা নেই এমন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যাই বেশি। আবার অনেকে মনোনয়ন নিয়েছেন, যাদের দলের সঙ্গে ও দলের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। তবে, দল যাকেই চূড়ান্ত করবে, তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করবে নেতাকর্মীরা।’
গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ শামছ উল-আলম হিরু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি বৃহত্তর সংগঠন। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা পর্যায়ে অনেক প্রভাবশালী নেতা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনে তাদের মনোনয়ন কেনার প্রত্যাশা থাকে। মনোনয়ন কিনলে দলের মধ্যে যেমন পরিচিত বাড়ে তেমনি এলাকার জনগণের মধ্যে জনপ্রিয়তায় অবস্থান সৃষ্টি হয়। এছাড়া দলের কিছু অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর দুর্বল নেতৃত্বের কারণেও বেড়েছে মনোনয়নপ্রত্যাশী।’
গাইবান্ধা-১ আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহামুদুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, ‘এক তরফা নির্বাচনে এর আগে বিএনপি অংশ নেয়নি। রাজপথে আন্দোল ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিল নেতাকর্মীরা। একাদশ জাতীয় নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে হবে জেনে প্রত্যেক আসনে একাধিক নেতা মনোনয়ন নিয়েছেন। তবে দল যাকেই মনোনয়ন দেবে তাকে বিজয়ী করতে কাজ করবে নেতাকর্মীরা।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘গাইবান্ধার পাঁচটি আসনে এ পর্যন্ত ৩১ জন প্রার্থী দলের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে শুনেছি। এছাড়া আরও কয়েকজন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করবেন বলেও শোনা যাচ্ছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধার পাঁচটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়। এবারও পাঁচ আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হবে বলে আশা করছি।’
গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও গাইবান্ধা-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী আনিছুজ্জামান খান বাবু বলেন, ‘দল যাকেই মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই কাজ করবে নেতাকর্মীরা। মূলত টার্গেট হবে ধানের শীষকে বিজয়ী করা। দলের জন্য অনেকেই মামলা-হামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু, দল তাদের মূল্যায়ন করেনি। এ কারণে অনেকে মনোনয়ন কিনে মূল্যয়ন নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’
বিএনপি থেকে পাঁচটি আসনে মনোনয়ন কিনেছেন ৩২ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। এরমধ্যে গাইবান্ধা-১ আসনে চারজন, গাইবান্ধা-২ আসনে ছয়জন, গাইবান্ধা-৩ আসনে চারজন, গাইবান্ধা-৪ আসনে সাতজন ও গাইবান্ধা-৫ আসনে ১১জন মনোনয়ন কিনেছেন।
পাঁচটি আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৫১ জন। তারমধ্যে গাইবান্ধা-৩ আসনে ২০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী মনোনয়নপত্র কিনে রের্কড করেছেন। এছাড়া গাইবান্ধা-১ আসনে পাঁচ জন, গাইবান্ধা-২ আসনে আট জন, গাইবান্ধা-৪ আসনে ৯ জন ও গাইবান্ধা-৫ আসনে ৯ জন।
গাইবান্ধা-৩ ও গাইবান্ধা-৫ আসনে জাসদ থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন দুই জন।
গাইবান্ধা-৫ আসনে সিপিবির একজন ও গাইবান্ধা-১ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
পাঁচটি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী, জেলা-উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে মনোনয়নপ্রত্যাশী বাড়ার বিষয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
গাইবান্ধা জেলার ৮২ ইউনিয়ন, সাত উপজেলা ও তিনটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত পাঁচটি সংসদীয় আসন। নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি আসনেই আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে। পরে উপ-নির্বাচনে গাইবান্ধা-১ আসনে জয় লাভ করে জাতীয় পার্টি।
আরও পড়ুন: বড় দল, তাই প্রার্থীও বেশি








