ভর্তি পরীক্ষার তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের ঘটনায় রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে। প্রতিবাদে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা রংপুর কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় দু’ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রবিবার থেকে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলছে। ৭০ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ায় একেক ইউনিটের পরীক্ষা ৩/৪ শিফটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকার পথে বিভিন্ন সংগঠন সামিয়ানা টাঙিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। ছাত্রলীগের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল আজিজ ফাহিনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের তথ্য দেওয়ার পর জোর করে ১০/২০ টাকা করে আদায় করছিল। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেত্রী আশিকুন্নাহার টুকটুকি, ছাত্রলীগ নেতা হাবিব, অভি, বাঁধন, পাভেল এসে টাকা নেওবার প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে সাবেক ছাত্র লীগ নেতা ফাহিনের কথা কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রুপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে ফাহিনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ৩০/৪০ জন অপর অংশের নেতাদের ওপর হামলা চালায় এতে চার ছাত্রলীগ নেতা আহত হয়। এ সময় তারা অভি নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
তবে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফাহিন টাকা নেওয়ার কথা অস্বিকার করে জানান, ওরাই জোর করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করায় তার ওপর হামলা চালায় তারা।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারো উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপই পার্কের মোড়ে দুপাশে অবস্থান নেয়। এ সময় ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা রংপুর-কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট মহাসড়ক অবরোধ করে দায়ীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করে। তারা দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে রাখে। এসময় সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে বিকেল সোয়া ৫টা থেকে আবারও যান চলাচল শুরু হয়।
তবে ছাত্রলীগ রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঘটনাটি ছাত্রলীগের দুগ্রুপের নয়। ফাহিন এক সময় ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা ছিল। সে সাবেক ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তার ছাত্রত্ব নেই। ফলে তার নেতৃত্বে বহিরাগতরাই হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে পাঁচ জনকে আহত করেছে। তিনি দায়িদের শাস্তি দাবি করেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মহিবুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন পরিস্থিতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র লীগের দু’গ্রুপে উত্তেজনা বিরাজ করছে।








