দাবি মানার আশ্বাস না পেয়ে ফের আন্দোলনে হাবিপ্রবির শিক্ষকেরা

দিনাজপুর প্রতিনিধি
১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:১৮আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৪৮

হাবিপ্রবি

ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর দাবিতে আন্দোলনকারী দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের আশ্বাসে তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে দাবি মানার আশ্বাস পাননি জানিয়ে শিক্ষকেরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

গত রবিবার (১৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে নিজেদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এদিকে, শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরাতে আজ বুধবার (১৬ জানুয়ারি) তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনায় বসে। পরে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা তাদের সব দাবি পূরণের আশ্বাস না পাওয়ার কথা জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত আন্দোলনকারী সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রেজিস্ট্রার ও ছাত্র উপদেষ্টাকে বহিষ্কার ও আন্দোলনকারী দুই শিক্ষকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং শিক্ষক লাঞ্ছনা ও নারী শিক্ষকদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি। এতে আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

এ ব্যাপারে কৃষ্ণ চন্দ্র রায় নামে এক সহকারী অধ্যাপক বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি– শিক্ষকদের যারা লাঞ্ছিত করেছে, তাদের বিচার করা। এই দাবি মেনে নিলে আমরা ক্লাসে ফিরে যাবো। কিন্তু প্রশাসন এই দাবিতে তেমন গুরুত্বারোপ করছে না, এতে সংকটের সমাধানও হচ্ছে না।’

সহকারী অধ্যাপক নাহিদ সুলতান ও ফাতিয়া ফারহানা বলেন, আমরা ক্লাসে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু প্রশাসন বার বার আলোচনায় বসে আমাদের দাবিগুলো উপেক্ষা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা, নারী শিক্ষিকাদের শ্লীলতাহানি করার বিচার হওয়া উচিত। নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু সমাধান চেয়েছি আমরা। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। দাবিগুলো মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. বলরাম রায় বলেন, ‘শিক্ষকরা যে দাবিগুলো তুলছেন, সে দাবি মানা হচ্ছে না, মানার আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে না। প্রশাসনের ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নেই, যার কারণে সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলম বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শিক্ষক লাঞ্ছিতের যে অভিযোগ, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অচিরেই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বেতন বৈষম্য দূর করার দাবিতে গত ১৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৬১ জন সহকারী অধ্যাপক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিধান চন্দ্র হালদারের কক্ষে যান। সেখানে তাদের ওপর হামলা, মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে পরের দিন থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে অনশনে যান পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামও। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষক ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয় ভর্তি পরীক্ষা এবং কর্মকর্তা ও শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। এরই মধ্যে ২৯ নভেম্বর রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. সফিউল আলমকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় আন্দোলনরত দুই শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কার করা হলে আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে উঠে। এমতাবস্থায় ৩ ডিসেম্বর ঢাকায় হাবিপ্রবি’র রিজেন্ট বোর্ডের এক সভায় ৪ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এক মাস বন্ধ শেষে গত ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলে এবং ৬ জানুয়ারি থেকে ক্লাস-পরীক্ষা চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় ৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলেও ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে আবারও আন্দোলনে নামেন দেড় শতাধিক শিক্ষক। ফলে প্রায় দুইমাস ধরে শিক্ষা কার্যক্রমে চলমান অচলাবস্থা অব্যাহত থাকে।

এদিকে, শিক্ষা কার্যক্রমে প্রায় দুই মাসের অচলাবস্থা নিরসন করে ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে গত ৯ জানুয়ারি রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থীরা। ক্লাস-পরীক্ষা চালুর দাবিতে তারা ১১ জানুয়ারি দুপুর থেকে একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এসময় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন শিক্ষকরা। তবে শিগগিরই ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর আশ্বাসে তারা পরে অবরোধ তুলে নেন।

এ ব্যাপারে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের আন্দোলন এখনও স্থগিত রয়েছে। প্রশাসন সিদ্ধান্ত জানার পর তারা তাদের আন্দোলন নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

 

/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম