সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার মূল আসামি আবু সালেক এক বছর ধরে গ্রামছাড়া। এই এক বছর ধরে পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ নেই। ছেলের অপকর্মের জন্য তার শাস্তি দাবি করেছেন বাবা আব্দুল কুদ্দুস। আবু সালেক ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
এদিকে দুদকের ভুলের কারণে সালেকের জায়গায় বিনা অপরাধে তিন বছর কারাভোগ শেষে রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে মুক্তি পান পাটকল শ্রমিক জাহালম ওরফে জানে আলম (২৮)।
সরেজমিন দেখা গেছে, গ্রামে সালেকদের একটি নতুন টিনশেড পাকা বাড়ি আছে। যেখানে তার বাবা-মা ও বোন থাকেন। চার ভাইবোনের মধ্যে সালেক তৃতীয়। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বছরখানেক সংসার করার পর সালেকের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। দুই বছর আগে সালেক ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সালেকের বাবা-মায়ের বনিবনা না হওয়ায় সে গ্রামের বাড়িতে আসেন না বলে জানান স্থানীয়রা।
সালেকের বাবা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার পর বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যায় সালেক। ঢাকায় যাওয়ার পর সে পরিবারের সঙ্গে তেমন কোনও যোগাযোগ রাখেনি। ঢাকায় ভোটার আইডি কার্ড (এনআইডি) তৈরির কাজ করতো বলে সে আমাদের জানায়।’
ছেলের অপকর্মের শাস্তি দাবি করে সালেকের বাবা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমি সালেকের টাকায় এ বাড়ি করেনি। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া আবাদি ২০ বিঘা জমি থেকে আমার সংসার চলে এবং ওই জমির আয় থেকেই ঘর নির্মাণ করেছি। টাকা আত্মসাৎ করে আমার ছেলে যে অপকর্ম করেছে, আমি তার শাস্তি দাবি করছি।’
ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের ও শাহ আলম জানান, হঠাৎ করেই সালেকের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। আগে তাদের বাড়িতে মাটির ঘর ছিল। এখন পাকা বাড়ি তৈরি করেছে। সালেক নিজ গ্রামে কোনও সম্পদ না করলেও বোনের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় টেলিভিশনের শোরুম দিয়েছে। এছাড়া সেখানে বেশ কিছু জমিও কিনেছে।
বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরে আলম ছিদ্দিকী মুক্তি বলেন, ‘আবু সালেকের বিরুদ্ধে এলাকায় ছোট বড় অপরাধের অভিযোগ আছে। সালেকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি মামলার সত্যতা আছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ৩৩টি মামলায় নিরপরাধ জাহালম ৩ বছর জেল খাটে। তথ্য অনুযায়ী, আবু সালেকের (মূল অপরাধী) বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ৩৩টি মামলা হয়েছে। কিন্তু দুদকের ভুলে আবু সালেকের বদলে জেল খাটেন জাহালম। তিনি পেশায় পাটকল শ্রমিক।








