গাইবান্ধা পৌর শহরের নতুন বাজার থেকে জব্দ করা দেড় বস্তা প্লাস্টিকের চাল জব্দের ঘটনায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর চাল কেনা নিয়ে সংশয়ে আছেন ক্রেতারা। বাজরে ক্রেতা কমে যাওয়ায় সমস্যায় আছেন ব্যবসায়ীরাও। তবে প্লাস্টিকের চাল জব্দের বিষয়টি নিছক গুজব বলে দাবি জেলা প্রশাসকের। এ নিয়ে ক্রেতা সাধারণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পৌর শহরের মুন্সিপাড়ার রনি নামে এক ক্রেতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শহরের নতুন বাজারসহ বিভিন্ন দোকানে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় নতুন বাজারের ব্যবসায়ী রুবান দেওয়ানের দোকান থেকে দেড় বস্তা (৫০ কেজি) প্লাস্টিকের চাল জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর থেকেই বাজারে ক্রেতা কম।
মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নতুন বাজারে আসা আল মাহমুদ নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘প্লাস্টিকের চাল জব্দের বিষয়টি জানার পর চাল কিনতে ভয় পাচ্ছি। কোনটা আসল আর কোনটা প্লাস্টিকের তা দেখে বোঝার উপায় নেই।’
সাইদুর রহমান নামে অপর এক ক্রেতা বলেন, ‘বাজার থেকে কোনও চাল কিনবো তা নিয়ে মনে সন্দেহ হচ্ছে। তারপরও বব্যবসায়ীর ওপর বিশ্বাস নিয়েই চাল ক্রয় করতে হচ্ছে।’
‘প্লাস্টিকের’ চাল জব্দের ঘটনার পর থেকে চাল বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, প্লাস্টিকের চাল সন্দেহে চাল জব্দের ঘটনার পর তারা সমস্যায় আছেন। ভালো চালও কিনতে চাচ্ছেন না ক্রেতারা। ফলে তাদের ক্ষতি হচ্ছে।
নতুন বাজারের চাল ব্যবসায়ী হায়দার আলী বলেন, ‘প্লাস্টিকের চাল বিক্রির কোনও প্রশ্নই ওঠে না। এক কেজি চালের যে দাম তা কিনতেই হিমশিম খায় ক্রেতারা। সেখানে প্লাস্টিকের চাল হলে তো দাম আরও বেশি হবে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী রুবান দেওয়ান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সুনামের সঙ্গে বাজারে বিভিন্ন জাতের চাল বিক্রির ব্যবসা করছেন। কিন্তু চাল নিয়ে কখনোই ক্রেতাদের কোনও অভিযোগ ছিল না। কিন্তু রনি নামের ওই ক্রেতা কী বুঝে অভিযোগ করলেন আর প্রশাসনও কীভাবে অভিযান পরিচালনা করলো তা বোধগম্য নয়। মূলত ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে।
রুবান জানিয়েছেন, তিনি এসব চাল পলাশবাড়ীর ঢোলভাঙা বাজারের ভাই ভাই ট্রের্ডাস থেকে কিনেছেন। মঙ্গলবার বিকালে ভাই ভাই ট্রেডার্সে অভিযান চালান পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাউল হোসেন। এসময় তিনি ভাই ভাই ট্রেডার্সের গুদাম ঘরে থাকা চালের বস্তা যাচাই-বাছাই করেন। একইসঙ্গে নাজির শাইল নামের চালের বেশ কয়েকটি বস্তা খুলে চাল দেখেন। তবে অভিযানে তিনি গুদামে কোনও প্লাস্টিক কিংবা ভেজাল চাল পাননি।
বাজারে অভিযান চালিয়ে চাল জব্দের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের নড়েচড়ে বসেন স্থানীয় প্রশাসন। প্লাস্টিকের চাল জব্দের বিষয়কে ভুল তথ্য বলে দাবি করেছেন জেলা প্রশাসন। এ নিয়ে ঘটনাটি আরও খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার ইউএনও, ওসি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ক্রেতার অভিযোগে অভিযানে যে চাল জব্দ করা হয়েছে তা প্লাস্টিক কিংবা ভেজাল চাল নয়। কিন্তু সংবাদ মাধ্যমগুলো তা প্লাস্টিকের চাল বলে প্রচার হয়েছে। ঘটনাটি নিছক গুজব। জব্দ করা চালগুলো অন্য চালের মতোই স্বাভাবিক। চালগুলো প্রকৃত কিনা তা যাচাই করতে রান্না করা হয়। এছাড়া চালগুলো আগুনে কড়াইয়ে ভাজা হয় সেখানেও ভাজা চালগুলোতে আগুন কিংবা পুড়ে যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, চাল নিয়ে আতঙ্কিত বা ঘাবড়ানোর কিছু নেই। অন্য চালের মতোই চালগুলো স্বাভাবিক। তারপরেও চালগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হওয়া যাবে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের গাইবান্ধার সহকারী উপ-পরিচালক মাসুম আলী বলেন, ‘ক্রেতার অভিযোগে চাল জব্দ করা হয়। যেহেতু জব্দ করা চাল নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে সেজন্য ১৫ কেজি চাল পরীক্ষার জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। এসব চাল পরীক্ষা পর প্রকৃত বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। বাজারে ভেজাল ও নিম্নমানের চালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে বাজারে চাল ক্রয়ে ক্রেতা সাধারণের আতঙ্কের কারণ নেই।’








