ঠাকুরগাঁওয়ে অজ্ঞাত রোগে এক পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে সোমবার রাতে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলটি মঙ্গলবার সকালে আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন। তারা আক্রান্ত রোগীদের রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় রায়।
পরে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বিশেষজ্ঞ দলটি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার ধনতলা গ্রামে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন শাহাজাহান নেওয়াজ।
ডা. মো. গাজী শাহ আলমের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ দলের অন্য সদস্যরা হলেন ডা. তানজিলা নওরিন, ডা. দেবাশীষ কুমার সাহা, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট শাহনাজ পারভিন ও ইসমাইল খান।
অন্যদিকে ওই এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নির্দিষ্ট এলাকার ১ কিলোমিটারের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধসহ ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করতে নিষেধ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
গত কয়েক দিনে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার ধনতলা গ্রামে অজ্ঞাত রোগে এক পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ওই পরিবারের আরও চারজনকে গুরুতর অবস্থায় রংপুর মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন রংপুর মেডিক্যালের চিকিৎসক শাম্মি।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের ভাণ্ডারদহ মরিচপাড়া গ্রামের আবু তাহের (৫৫), তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগম (৫০), দুই ছেলে ইউসুফ আলী (২৭) ও মেহেদী হাসান (২৪) এবং একমাত্র মেয়ের জামাই ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের কুজিশহর ঘুরনগাছ গ্রামের কহিম উদ্দীনের ছেলে হাবিবুর রহমান ছুটু (৩৫)।
হাসপাতালে থাকা চারজন হলেন কোহিনুর বেগম (১৯), আবির (২), মকসুদা (৩০) ও রবিউল (৬০)। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় রায় জানান, রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় তাদের মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি কক্ষে আলাদাভাবে রাখা হয়েছে। রোগটি আসলে কি তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সম্পর্কে কিছুই বলা সম্ভব না। আক্রান্ত রোগীদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে রোগটি ‘এনকেফালাইটিস’ হতে পারে বলে চিকিৎসকরা ধারণা করছেন।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে রংপুর মেডিক্যালে ভর্তি হন ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গি উপজেলার ধনতলা গ্রামের আবু তাহের (৫৫)। চারদিন পর ৯ ফেব্রুয়ারি মারা যান তিনি। এরপর তার দুই ছেলে ইউসুফ আলী ও মেহেদী হাসান অসুস্থ হয়ে রংপুর মেডিক্যালে ভর্তি হয়। একইভাবে তার দুই ছেলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর একই রোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে তাহেরের স্ত্রী ও মেয়ের জামাই হাবিবুল মারা যান।
অন্যদিকে একই গ্রামের সালমা নামে এক নারীসহ তিনজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফিরোজ জামান জুয়েল বলেছেন, ‘এটি ভাইরাসজনিত রোগ।’ তিনি গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।








