রিকশা চালিয়ে ফিরোজের বাবা প্রতিদিন যা রোজগার করেন তা দিয়ে পরিবারের ৬ জন সদস্যের খরচ বহন করা খুব কঠিন হয়ে যায়। এরপর সন্তানদের পড়ালেখার খরচ মেটানোসহ ভালো জামা কাপড় কিনে দেওয়ার সামর্থ্য ফিরোজের বাবা ফয়জার আলীর নেই। ফিরোজ আলী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। ভালো ফলাফল করলেও সে পরে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে ।
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার নিউ পাকেরহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলে ফিরোজ আলী বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। ফিরোজ পিএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং জেএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে।
ফিরোজের বাবা ফয়জার আলীর ভিটেমাটি ছাড়া জমিজমা নেই। বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, ২ ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ফয়জার আলীর সংসার। ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সবার বড় ফিরোজ। ছোট ছেলে ৮ম শ্রেণিতে ও মেয়ে ৫ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।
এত ভালো ফলাফল করার পরও ফিরোজ আলীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়েছে। ভালো কলেজে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও বাবার সামান্য আয়ে তার ভর্তির অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ফিরোজের বাবা ফয়জার আলী সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘আমি রিকশা চালাই। আমার মেধাবী ছেলেটা ডাক্তার হতে চায়। সে ডাক্তার হয়ে মানুষ ও দেশের সেবা করতে চায়। কিন্তু আমি ছেলেটাকে ভালো কলেজে ভর্তি করাতে পারবো না। আমি রিকশা চালাই। দিনে যা রোজগার করি তা দিয়ে আমার মা, স্ত্রী ও তিন সন্তানের খাওয়া খরচ কোনোভাবে চলে। আমি সমাজের বৃত্তবানদের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আমার মেধাবী সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য স্বহৃদয়বান ব্যক্তিরা যেনো এগিয়ে আসেন।’
সব বিষয়ে এ প্লাস পাওয়া ফিরোজ আলী সমাজের বিত্তশালী লোকদের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘আমি নটরডেম কলেজের মত কলেজে ভর্তি হতে চাই। আমার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন আমি ডাক্তার হব। আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি ছোট বেলা থেকেই অনেক পরিশ্রম করে আসছি। আমি ডাক্তার হয়ে সমাজের, দেশের, পরিবারের মানুষের কষ্ট লাঘব করতে চাই।’
আংগারপাড়া ইউনিয়নের বাংলা বাজার এলাকাবাসী জানায়, ফয়জারের ছেলে ফিরোজ খুবই মেধাবী ছেলে। ছোট থেকেই সে খুব কষ্ট করে পড়ালেখা করেছে। তার প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল অনেক ভালো। আমরাও যতটুকু পারি তাকে সাহায্য করি কিন্তু ভালো জায়গায় পড়াতে গেলে অনেক টাকার দরকার। এই টাকা ফিরোজের বাবা ফয়জার আলীর বহন করা সম্ভব নয়। তাই এলাকাবাসীও চায় বিত্তবান লোকেরা যেন ফিরোজের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।
এ বিষয়ে নিউ পাকেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফিরোজ আমার স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই আমি এবং স্কুল থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা যায়, করেছি। সে খুব মেধাবী ছেলে।
ভবিষ্যতে ফিরোজের মত ছেলেরা অনেক ভালো করবে প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, ‘সমাজের বিত্তবান মানুষরা যাতে ফিরোজের মত অসহায় ছেলে মেয়ের পাশে দাঁড়ায় আমি এই আহ্বান করছি। ফিরোজের মত মেধাবীদের নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।’








