আট দিন ধরে গাইবান্ধা থেকে ঢাকাগামী সব ধরনের দিবা ও নৈশ কোচ চলাচল বন্ধ রয়েছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়া পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের অতিরিক্ত চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জের ধরে এ অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
বাস মালিকদের অভিযোগ, গাইবান্ধা থেকে ঢাকাগামী বাসে ১৮০ টাকার স্থলে ২৬০ টাকা, পলাশবাড়ীতে ৫০ টাকার স্থলে ১০০ টাকা, গোবিন্দগঞ্জে ৬০ টাকার স্থলে ১২০ টাকা ও শেরপুরে ২০ টাকার স্থলে ৭০ টাকা ‘চেইনে’র নামে চাঁদা নির্ধারণ করেছে বাস মালিক সমিতি ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। এর প্রতিবাদে গাইবান্ধা থেকে দূরপাল্লার আলহামরা, এসআর, অরিণ ও শ্যামলীসহ সব চেয়ার কোচ চলাচল বন্ধ রেখেছেন বাস মালিকরা। তবে হাতে গোনা কিছু লোকাল বাস গাইবান্ধা থেকে ঢাকা, সিলেট ও চট্রগ্রামে চলাচল করছে।
অন্যদিকে টানা আট দিন ধরে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে ঢাকা, সিলেট ও চট্রগ্রামসহ দক্ষিণ অঞ্চলে যাতায়াতকারীরা। বিশেষ করে হজ যাত্রীরা ঝামেলায় পড়েছেন। এ সমস্যার সমাধান না হওয়ায় গাইবান্ধায় দূরপাল্লার সব কাউন্টার বন্ধ রয়েছে। বাস চলাচল না করায় চালক ও হেলপারসহ বাস শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন। অনেকে দৈনিক মজুরির টাকা না পেয়ে কষ্টে আছেন বলে জানান।
শনিবার দুপুরে গাইবান্ধা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, কাউন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে। দূরপাল্লার বাসগুলো টার্মিনালে পড়ে আছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যাত্রীরা বাস না পেয়ে টার্মিনাল থেকে লোকাল বাস ও সিএনজিতে করে পলাশবাড়ী এবং গোবিন্দগঞ্জ যাচ্ছেন। অন্য যাত্রীরা রংপুর, দিনাজপুর ও কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চল থেকে আসা বাসে করে ঢাকা, সিলেট ও চট্রগ্রামে যাচ্ছেন। এতে অতিরিক্ত টাকা খরচসহ সময় নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
এসআর ট্রাভেলস গাইবান্ধা কাউন্টারের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আট দিন ধরে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাস চললে টাকা পাই কিন্তু বাস না চলায় টাকা পাচ্ছি না। পরিবার নিয়ে কষ্টে আছি।’
বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আ স ম রুহুল হক নান্নু বলেন,‘বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের দ্বন্দ্ব নিরসনের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, ‘সমস্যা সমাধানের জন্য বাস মালিক, মোটর মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সময়ে সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।’








