ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সম্প্রতি দেশের বিভিন্নস্থানে দেখা দিয়েছে বন্যা। বন্যার পানিতে ডুবেছে জমি, বসতবাড়ি, ভেসে গেছে বিভিন্ন মাছের ঘের। বন্যার প্রভাব পড়েছে হিলির কাঁচাবাজারে। কয়েকদিনের ব্যবধানে সবজির দাম তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি পেয়েছে কাঁচা মরিচের দাম। এতে করে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুরসহ সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে বাংলাহিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পটল ১০ টাকা দরে বিক্রি হলেও, এখন তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। ঢেড়স ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। মিষ্টি কুমড়া ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, বরবটি ১৫-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা। এছাড়া করলা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, কচুর বই ২৫ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, ১৫ টাকার আলু বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকা কেজি দরে। যে কাঁচামরি ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি ছিল, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। পেঁয়াজ ১২ টাকা থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন ১৮ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা মাহবুব হোসেন ও হোসনে আরা নামের দুই ক্রেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বাজারে সবজির দাম খুব চড়া। দুই সপ্তাহ আগে যে দাম ছিল, বন্যায় এখন তা বেড়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ হয়ে গেছে। কোনও কিছুর দামই নিয়ন্ত্রণে নেই। বাজার করতে এসে সাধারণ ও নিন্ম আয়ের মানুষেরা হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন।
হিলি বাজারের সবজি দোকানি দেলোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের হিলি বাজারে বিভিন্ন সবজি সাধারণত পাশের বিরামপুর ও পাঁচবিবি উপজেলা থেকে আসে। তবে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা দেখা দেওয়ায় ওইসব অঞ্চল থেকে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা বেশি দামে সবজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ কারণে বাজারে হঠাৎ সবজির দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে আমাদেরও বেশি দামে সবজি কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে।








