বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, কিছুটা স্বস্তিতে সুন্দরগঞ্জবাসী

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা
২৮ জুলাই ২০১৯, ১৪:৩৪আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৯, ১৫:৩১

বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বালুর বস্তা, জিও ব্যাগ ফেলে ও পাইলিং করে মেরামত করায় সুন্দরগঞ্জের মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে

গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো দুর্গত মানুষ ঘরে ফিরে যেতে পারেনি। তারা এখনো নিরাপদ স্থান ও বাঁধে অবস্থান করছে। তবে অন্যান্য এলাকার তুলনায় স্বস্তিতে আছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ। কারণ সময়মতো সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো মেরামত করায় ওই এলাকার মানুষ বন্যা থেকে রক্ষা পেয়েছে।

এবারের বন্যায় গাইবান্ধায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩৭টি পয়েন্ট ধসে যাওয়ায় পরিস্থিতির অনেক অবনতি হয়েছে। ১১ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বন্যায় নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো ভেঙে গাইবান্ধা শহর ও নিম্নাঞ্চলের প্লাবিত হয়েছে। একের পর এক বাঁধ ধসে জেলার দুটি পৌরসভা ও সাত উপজেলার ৪২৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৭ জন মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। বন্যায় ৫৯ হাজার ৮৭০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নষ্ট হয়েছে। ১৪ হাজার ২১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সাড়ে ৬ হাজার পুকুর ও খামারের মাছ ভেসে গেছে। বিধ্বস্ত হয়েছে রেললাইন, ৬শ’ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক, ২৬৬ কিলোমিটার পাকা সড়কসহ ৩৯টি ব্রিজ ও কালভার্ট। বন্যার পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে শিশুসহ মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের।

বন্যার এমন ভয়াবহতা থেকে কিছুটা রক্ষা পেয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীর তীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের আশপাশের এলাকার মানুষ। সময়মতো পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সহায়তায় বালুর বস্তা ফেলে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করায় ভাঙন থেকে রক্ষা পেয়েছে এই এলাকার মানুষ।

গাইবান্ধায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধসে ৪২৪টি গ্রাম প্লাবিত

সরেজমিনে চণ্ডিপুর ইউনিয়নের হরিপুর, ফারাজিপাড়া, জয়বাংলা মোড়, উত্তর সীচা ও লালচামার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েক যুগের পুরনো বাঁধগুলো কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু। আবার কোথাও প্রশস্ততা কমে সরু হয়ে গেছে। এরমধ্যে ইঁদুরের গর্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টসহ মেরামত করা অংশ দেখেই এর ভয়াবহতা বোঝা যায়। এরপরও বাঁধের ওপরই ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছে মানুষ। এছাড়া বন্যা আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষ বাঁধগুলোতে ছাপরা ও টিনের চালা তুলে আশ্রয় নিয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, বাঁধগুলো অনেক দিনের পুরনো। এগুলোর অবস্থা বেহাল। বাঁধগুলো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা বাস্তবে দেখলেই বোঝা যায়। প্রতি বছরেই বাঁধ সংস্কার হয়। কিন্তু তা শুধু বর্ষায় আর ভাঙনের সময়। সাময়িক মেরামত নয়, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণসহ শুষ্ক মৌসুমে এ বাঁধের স্থায়ী সংস্কার চান তারা। তাদের দাবি শুধু বর্ষায় বা জরুরি মুহূর্তে নয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা যাতে সব সময় বাঁধ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। এছাড়া তারা বাঁধগুলো মেরামতের পাশাপাশি এর স্থায়ী ও টেকসই সংস্কারের দাবি জানান।

চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) রঞ্জু মিয়া বলেন, ‘সুন্দরগঞ্জের অধিকাংশ বাঁধই ঝুঁকিপূর্ণ। উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের অন্তত ২০টি পয়েন্ট মেরামত করায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এই এলাকার লাখ লাখ মানুষ।’

বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাঁধ রক্ষায় দায়িত্বরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী এটিএম মোনায়েম হোসেন বলেন, ‘স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বালুর বস্তা, জিও ব্যাগ ফেলে ও পাইলিং করে মেরামত করা হয়েছে। ফলে ভাঙন রোধ সম্ভব হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পুরো বাঁধটি স্থায়ী সংস্কারের জন্য জরিপ শেষ হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদনের জন্য একটি প্রস্তাবনাও সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবনাটি অনুমোদন হলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।’

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, ‘বাঁধ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সব সময় সতর্ক আছে।’

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বরাদ্দের অভাবে স্থায়ীভাবে বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবছর বন্যা ও নদী ভাঙন এবং নাব্য সংকটের কারণে বাঁধগুলো রক্ষা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। বাঁধগুলোর স্থায়ী সংস্কারসহ বেশকিছু পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষে নতুন করে কিছু পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা তৈরি করে আবারও পাঠানো হবে।’

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ দিনের পুরনো এ বাঁধগুলো এর আগে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় এনে মেরামত করা হয়। কিন্তু ২০০৭-২০০৮ অর্থবছর থেকে কাবিখা কর্মসূচিও বন্ধ। ফলে বাঁধগুলোর অবস্থা ক্রমেই বেহাল ও ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এরপর বাঁধগুলো সংস্কার হলেও অধিকাংশ বাঁধই ঝুঁকিপূর্ণ। তবে গত ১৯ জুলাই গাইবান্ধার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে জেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভায় গাইবান্ধা শহর রক্ষাসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কারে ২৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের কথা জানান পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম।’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনেকটাই জোরদার হবে বলে তিনি আশা করছেন।

/জেবি/এমএমজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম