বন্যার পানি নামলেও ক্ষত রয়ে গেছে কুড়িগ্রামের দুর্গত এলাকায়। চরাঞ্চলে পানি নেমে যাওয়ার পর ঘরবাড়ি মেরামতে ব্যস্ত গৃহিণীরা। আর পুরুষ সদস্যরা ছুটছেন কাজের সন্ধানে। এমনই কাজে ব্যস্ত ছিলেন খাদিজা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের মেঝে মেরামতের জন্য মাটি আনতে গিয়েছেন বাড়ির বাইরে। ঘরে ঘুমিয়ে ছিল আড়াই মাসের একমাত্র মেয়ে ইয়ামনি। মাটি নিয়ে ফিরে মেয়েকে আর জীবিত পাননি তিনি। হঠাৎ করে লাগা আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালো ইয়ামনি।
শনিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা অষ্টমীরচর ইউনিয়নের নটারকান্দি বাজারপাড়ায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে খাদিজা-আমিনুল দম্পতির একমাত্র মেয়েসহ তাদের বসতঘরটি ভস্মীভূত হয়ে যায়।
আমিনুলের প্রতিবেশীরা জানান, শনিবার দুপুরে দিনমজুর আমিনুল অন্যের জমিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। তার স্ত্রী খাদিজা ঘর মেরামত করার মাটি আনতে বাইরে গিয়েছিলেন। এ সময় তাদের বাড়িতে হঠাৎ আগুন লাগে। আশেপাশের লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনে পুড়ে মারা যায় তাদের একমাত্র মেয়ে।
অগ্নিকাণ্ডে আমিনুলের থাকার একমাত্র ঘর, ঘরে থাকা কাপড়-চোপড়, ধান-চালসহ প্রায় সব মালামাল পুড়ে গেছে।
আমিনুল কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ঘরতো কোনও না কোনোভাবে পামু, মাইয়া (মেয়েকে) কই পামু। বুকটা আমার ফাইটা যাইতাছে।’ শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে আমিনুলের স্ত্রী খাদিজা।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় অষ্টমীরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তালেব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিবারটিকে একটি তাঁবুসহ নগদ দুই হাজার টাকা এবং ৩০ কেজি চাল দেন তিনি। এছাড়া আরও সহায়তার আশ্বাস দেন।







