ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না পারায় এখন দেশীয় গরুর দখলে রয়েছে দিনাজপুরের দেড় শতাধিক পশুর হাট। এরই মধ্যে জমে উঠেছে পশু বেচাকেনা। ভারতীয় গরু না আসায় ভালো দাম পাওয়ায় খুশি খামার মালিকরা। আর দাম সহনশীল থাকায় সাধ ও সাধ্যের পশু কিনতে পেরে স্বস্তিতে ক্রেতারা।
পশু ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী জানান, কয়েকদিন আগে যে গরু ৩৫-৪০ হাজার টাকা ছিল, সেই গরু বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রেলবাজার হাটে বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ হাজার টাকায়।
তিনি আরও জানান, প্রথম দিকে দেশীয় গরুর খামার মালিক ও ব্যবসায়ীরা হতাশার মধ্যে ছিল। শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা ও দাম বাড়ায় খুশি খামার মালিক ও ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় গরু না আসায় দেশীয় গরুর দখলে রয়েছে পশুর হাটগুলো। এ কারণে তারা ভালো দাম পাচ্ছেন।
পছন্দমত দেশী গরু কিনতে পারায় খুশি ক্রেতারাও। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ক্রেতা নজরুল ইসলাম জানান, যে হারে দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা ছিল তেমন দাম বাড়েনি। পছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা একটু বেশি দামে পশু কিনলেও স্বস্তিতে পেয়েছেন।
দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে দেড় শতাধিক পশু বেচাকেনার হাট বসে। জেলার অন্যতম বৃহত্তম পশুর হাট রেলবাজার এবং কাহারোল হাটে গিয়ে দেখা যায় ভারতীয় গরুর তেমন উপস্থিতি নেই। হাট দখল করে আছে দেশীয় গরু। প্রথম অবস্থায় দাম কিছুটা কম থাকলেও ঈদ ঘনিয়ে আসায় দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে এসেছে।
দিনাজপুর জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহিনুর আলম জানান, দিনাজপুরে ঈদ উপলক্ষে ৮২ হাজার ৩৩০টি গরু ও ২৬ হাজার ছাগলের চাহিদা রয়েছে। তবে জেলার ছোট-বড় মিলিয়ে ৬০ হাজার ৫২০ জন খামার মালিক এবার কোরবানি উপলক্ষে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৬৫টি গরু এবং ৭১ হাজার ২৪৯টি ছাগল প্রস্তুত করেছেন। জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৮৩ হাজার পশু দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, এবারও খামার মালিকদের আশঙ্কা ছিল ভারত থেকে গরু আসা নিয়ে। কারণ ভারতীয় গরু বাজার দখল করায় দেশীয় খামার মালিকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়। কিন্তু এবার ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না পারায় পশুর হাটগুলো এখন পর্যন্ত দেশীয় খামার মালিকদের দখলে।








