রাজশাহী ও রংপুর রেঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে লালমনিরহাটে প্রথম ‘ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
রংপুর রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় লালমনিরহাট ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সিরাজুল হক, সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুল হামিদ বাবু, ইউসিবিএলের ফার্স্ট অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হাসান মো. জাহিদ, ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক তারিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশ কর্মকর্তারা।
প্রধান অতিথি ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘ইউসিবিএল ব্যাংকের ইউ-ক্যাশ এবং আইটি লিমিটেডের সহায়তায় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মাধ্যমে এখন হতে যানবাহনের মামলা পরিচালনা করা হবে। ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সেবা কার্যক্রম চালু হওয়ায় এখন আর গাড়ির মালিক ও চালককে হয়রানির শিকার হতে হবে না। ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছিল, তা আর থাকবে না। এক কথায় ভোগান্তি থাকবে না। এই আধুনিক সফটওয়্যার পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে রংপুর রেঞ্জের আট জেলায় চালু করা হবে। এটি লালমনিরহাট জেলা দিয়ে প্রথমে শুরু করা হলো। ’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য নিজেই রংপুর-বুড়িমারী স্থলবন্দর জাতীয় মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থেকে লালমনিরহাট বাস স্ট্যান্ড এলাকায় দুটি ট্রাকের কাগজপত্র ও ফিটনেস যাচাই করেন। এসময় হাইড্রোলিক হর্ন লাগানোর কারণে একশ’টাকা করে জরিমানা করা হয়। ওই দুই ট্রাকের চালকদের মধ্যে মো. জসিম উদ্দিন সঙ্গে সঙ্গে ই-ক্যাশের মাধ্যমে ১০০ টাকা পরিশোধ করে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে চলে যান। একইভাবে অন্যগাড়ির চালকও জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন এবং তার গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে চলে যান।
জানতে চাইলে চালক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হওয়ায় এখন আমরা সঙ্গে সঙ্গে মামলা ভাঙাতে পারবো। টাকাও সরাসরি সকারের ঘরে চলে যাবে। এতে করে অনিয়ম যেমন কমে যাবে, তেমনই হয়রানিও কমবে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘ইউক্যাশের মাধ্যমে জরিমানার টাকা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হবে। এতদিন যেসব অভিযোগ ছিল, তা আর থাকবে না। আমরা চেষ্টা করছি, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যেন এই সেবা প্রত্যেক জেলায় চালু করা সম্ভব হয়।’








