দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি বাড়ার কারণে মাত্র একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা কমেছে। একদিন পূর্বেও প্রতিকেজি পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৫১ টাকা থেকে ৫৭ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৪৭ টাকা থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সামনের দিনে দাম আরও কমবে বলে জানিয়েছেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পেঁয়াজের রফতানিমূল্য বৃদ্ধির ফলে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি কমে ১২ থেকে ১৩ ট্রাকে নেমে আসে। বর্তমানে তা খানিকটা বেড়ে ২১ থেকে ২২ ট্রাকে দাঁড়িয়েছে। হিলি স্থলবন্দরে প্রতিকেজি পেঁয়াজ পাইকারিতে (ট্রাকসেল) প্রকারভেদে ৪৭ টাকা থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পাইকারিতে দাম কমার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে। দু’দিন আগেও প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হলেও, এখন তা কমে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে আর দেশি জাতের পেঁয়াজ ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও, তা কমে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ভারত থেকে প্রতিটন পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ৩০০ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি হলেও গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে পেঁয়াজের রফতানিমূল্য তিন গুণের মতো বাড়িয়ে ৮৫২ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে ভারত সরকার। এরপরই দেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। বাড়তি দামে পেঁয়াজ আমদানি ও এলসি খুলতে বেশি টাকা লাগায় এবং সব আমদানিকারকরা পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ না পাওয়ায় বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আসার পরিমাণ কমে আসে। বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ ট্রাকে ২৭০ থেকে ২৯০টন পেঁয়াজ আমদানি হতে শুরু করে। এতে দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যায়, পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
তিনি আরও জানান, এ অবস্থায় পেঁয়াজ আমদানির জন্য খোলা এলসির বিপরীতে বেশি করে পেঁয়াজ রফতানি করতে আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে রফতানিকারকদের চাপ প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন থেকেই পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ কিছুটা বেড়ে বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ২১ থেকে ২২ ট্রাকে ৪৫০ থেকে ৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। একইভাবে দেশের সবগুলোবন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি আগের তুলনায় বেড়েছে। এতে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ আগের তুলনায় খানিকটা বাড়ার কারণে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান,এছাড়াও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিলিসহ দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে পর্যায়ক্রমে ৮/১০দিন আমদানি রফতানি বন্ধ থাকবে এ কারণে পূজার আগেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করছেন এতে করে ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের সরবরাহ খানিকটা বাড়তে শুরু করেছে। এতে করে দামও কমতে শুরু করেছে। এছাড়াও সামনে ১৫/২০ দিনের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে এতে করে পেঁয়াজের দাম যেমন স্বাভাবিক হয়ে আসবে।








