শারদীয় দুর্গাপূজার আর মাত্র বাকি তিন দিন। এরই মধ্যে দিনাজপুরের মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে এসব প্রতিমা ও মণ্ডপের সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ। কোন মণ্ডপ কত বেশি সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে সাজানো যায় তা নিয়ে পূজা উদযাপন কমিটির লোকজনের মধ্যে এক ধরনের সুস্থ প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রতিমার রূপ-রঙের বৈচিত্র্য, শৈল্পিক ডিজাইন, কারুকার্য, আলোকসজ্জার মধ্যে রয়েছে এই প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতা উৎসবের রঙকে যেন বহুগুণে বাড়িয়ে তুলেছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস সব অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে ও মানবতার কল্যাণে দেবী দুর্গার পৃথিবীতে আগমন ঘটবে। দুর্গা দুর্গতিনাশিনী, মঙ্গলময়ী, শক্তিরূপী। তার সঙ্গে আসছেন ছেলে গণেশ ও কার্তিক, মেয়ে সরস্বতী ও লক্ষ্মী। কৈলাশ থেকে আসা দুর্গা মাকে বরণ করতে দিনাজপুরের মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে জোর প্রস্তুতি। যেন দম ফেলার ফুসরত নেই শিল্পীদের।
গ্রাম ও শহরে চলছে প্রতিমা তৈরির প্রতিযোগিতা। এবারও প্রতিটি মণ্ডপের প্রতিমায় থাকছে নতুন রূপ-রঙের বৈচিত্র্য; যা দর্শকদের আরও বিমোহিত করবে। শৈল্পিক ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলোকে মনে হবে যেন স্বর্গীয় আভায় রূপায়ণ।
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার কেন্দ্রীয় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবল চন্দ্র রায় জানান, এখন সব মন্দিরেই এক ধরনের প্রতিযোগিতার ভাব থাকে। এই প্রতিযোগিতায় কোনও পুরস্কার নেই, তবুও ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মনে নাড়া দিতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়ে থাকে।
বেতুড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রমাকান্ত রায় জানান, এই প্রতিযোগিতার মধ্যে একধরনের আনন্দ আছে। এটা আনন্দ বিলিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতা। একটা সময় ছিল যখন গ্রামের মানুষ শহরাঞ্চলে যেত পুজো দেখতে। এখন উল্টো, শহরাঞ্চলের মানুষজন আসেন গ্রামাঞ্চলে। এটা একটা আনন্দেরও বিষয়। যে মণ্ডপ যত বড়ই হোক, মা যেন সব মানুষের মঙ্গল করেন এই কামনাই থাকে সবার মাঝে।
দিনাজপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বরুপ বকসী বাচ্চু বলেন, ‘দিনাজপুর অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি জেলা। এবারে এই জেলায় এক হাজার ২৬২টি মন্দিরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরে এত বেশি মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন আর কোনও জেলায় হয় না। এটা একটা গর্ব করার মতো বিষয়। পূজার মধ্যে যেন কোনও ধরনের নিরাপত্তার অভাব না হয়, সেজন্য উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পুলিশসহ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত থাকবে।’








