ভারত রফতানি বন্ধ ঘোষণার পর দেশের বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। এই পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) হিলি স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নূর মোহাম্মদ মাহবুবুল হক। এসময় তিনি ব্যবসায়ীদের আড়তে পেঁয়াজের মূল্য তালিকা টাঙিয়ে রাখার নির্দেশ দেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, যুগ্ম সচিব নূর মোহাম্মদ মাহবুবুল হক হিলি বন্দরে খোলাবাজার পরিদর্শন করেছেন। তিনি ভারতীয় ব্যবসায়ী, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হিলি বন্দরের সব পেঁয়াজ আমদানিকারকের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি ।
বৈঠকে বন্দর দিয়ে কী পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে, কোনও পেঁয়াজ মজুত আছে কিনা এবং কী দামে বিক্রি হচ্ছে—এসব বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার কথা হয়। বৈঠক শেষে বন্দরের বিভিন্ন আমদানিকারকের গুদাম ও আড়ত পরিদর্শন করেন তিনি। খুচরা বাজারেও পেঁয়াজের দাম পর্যবেক্ষণ করেন। দোকানিদের মূল্য তালিকা টাঙানো ও দাম বেশি নিলে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ, মেয়র জামিল হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুর রেজা, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন, পেঁয়াজ আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম, বাবলুর রহমানসহ অনেকে।
বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পরে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সম্প্রতি ভারত পেঁয়াজ সম্পর্কে তাদের পলিসি কিছুটা পরিবর্তন করেছে। প্রথমে তারা এক্সপোর্ট প্রাইজ ৮৫২ ডলারে নির্দিষ্ট করে দেয়। পরে তারা পেঁয়াজ রফতানি একেবারে বন্ধ করে দেয়। এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মনিটরিং করছে। আমরা চাই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে থাক। এ লক্ষ্যেই হিলি বন্দরের প্রকৃত অবস্থা দেখতে এসেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘এখানে এসে জানতে পারলাম, আগে থেকে এলসি হওয়া ভারত অংশে আটকে থাকা পেঁয়াজের একটা বড় অংশ আজ (৩ অক্টোবর) দেশে প্রবেশ করতে পারে। এগুলো এলে আশা করছি, ৫৫-৬০ টাকার মধ্যে বা তারও কিছু কমে পেঁয়াজ পাওয়া যেতে পারে।’








